নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জুন: বরাবরের মতোই মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে বামফ্রন্ট। শান্তিনিকেতনের মহিলা কর্মী মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এমনটাই বললেন প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মনীষার মৃত্যুর ঘটনায় বিরোধীদের আক্রমণ করেন।
তাঁর কথায়, বামফ্রন্ট সবসময়ই মৃত্যুকে নিয়ে লাশকে নিয়ে রাজনীতি করে আসছে। এ নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু এই ধরনের রাজনীতি ত্রিপুরার জনগণ আর গ্রহণ করবে না। এ ধরনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই ২০১৮ সালে বামফ্রন্টকে সরিয়ে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে সাধারণ জনগণ। মনীষার মৃত্যুর ঘটনায় তিনি জানান, ইতিমধ্যেই বিজেপির চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল মনীষা দাসের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা প্রত্যেকের রাজ্য প্রশাসনের তদন্তের উপর ভরসা রয়েছে। যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে মনীষার পরিবারের সদস্যরা আস্থা রেখেছেন সরকারের ওপর। তাদের ভরসা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মনীষার মৃত্যুর আসল ঘটনা উন্মোচিত হবে। এরপর পেছনে যদি কলেজ কর্তৃপক্ষ অথবা যেকোনো ব্যক্তির হাত থেকে থাকে তাহলে তাকে যোগ্য শাস্তি দেওয়া হবে।
তিনি জানিয়েছেন, মনীষার বাড়িতে যাওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপাহীজলা জেলা সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, কমলাসাগরের বিধায়িকা অন্তরা দেব সরকার, মহিলা মোর্চার প্রদেশ সভানেত্রী মিমি মজুমদার সহ প্রদেশ সম্পাদক তাপস মজুমদার। প্রতিনিধি দলটি মনীষার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন প্রশাসন যেভাবে এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে তাতে তারা নিশ্চিত মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে। প্রদেশ বিজেপি মুখপাত্র আর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে মুক্তহস্তে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন, ফলে রাজ্যে অপরাধের সংখ্যা কমেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সঠিক তদন্ত হচ্ছে। রাজ্য শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিরোধীরা এই মর্মান্তিক বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। এটি সাধারণ জনগণ কোনভাবেই চায় না। এটি সুস্থ রাজনীতি নয়। তাই এই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহবান করেন প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র। তাঁর কথায়, মনীষার মৃত্যুর ঘটনাটি সম্পূর্ণ তদন্ত সাপেক্ষ, তাই তদন্ত চলাকালীন সময়ে নিজেদের মতো করে ঘটনাকে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কোন কারণ নেই। তাই এ ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেন তিনি।
এছাড়াও আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের ডাকা বনধের ঘটনায় তিনি বলেন, যদি সরকার মনে করেন তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ তাহলে জনজীবন বিপর্যস্ত করে কোন আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, এমনিতেই এই দাবি পূরণ হবে। রাস্তা অবরোধ করে জনজীবন বিপর্যস্ত করে এধরনের আন্দোলন কাম্য নয়। এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের জন্যেই দল তৈরি রয়েছে বলে জানালেন প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী।



















