আগরতলা, ১৭ জুন: আস্থা ও বিশ্বাস মানুষের জীবনকে আলোকিত করে, আর আধ্যাত্মিক চেতনা সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখায়। নাস্তিকের মানসিকতা থেকে আস্তিকের পরিবেশে উত্তরণের এই যাত্রা মানবজীবনে শান্তি, মূল্যবোধ ও মানবিকতার বিকাশকে আরও সুদৃঢ় করে। আজ বিশালগড়ে মা দক্ষিণেশ্বরী কালি মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন,আজ বিশালগড়ে শ্রী শ্রী দক্ষিণেশ্বরী কালী মন্দিরের নবনির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আগামীদিনে এই মন্দির আস্থা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। সমাজে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটলে, মানুষ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আরও দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে পূর্বতন সরকার যারা চালিয়েছিলেন, তারা মন্দির বিশ্বাস করতেন না। তারা নাস্তিক। কিন্তু আমরা হচ্ছি আস্তিক। ২০১৮ সালে আমাদের সরকার আসার পর এখন সারা ত্রিপুরায় আস্তিকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই বিশ্বাস ও আস্থার উপর ভিত্তি করেই আমাদের আগামীদিনের পথচলা। বিশালগড়ের মা দক্ষিণেশ্বরী কালি মন্দিরের একটা সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। এটা শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এরসঙ্গে একটা ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। এই মন্দিরটিকে পর্যটনে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা সেটা নিয়েও বলছেন অনেকে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী ও আধিকারিকদের সঙ্গে আমি কথা বলবো। কারণ সবকিছুরই একটা গাইডলাইন রয়েছে।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসার পর গোটা ভারতবর্ষে একটা আস্তিকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামমন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও গৃহ গর্ভের সূচনা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আমি নিজেও সেখানে গিয়ে দেখে এসেছি। আর ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে ধর্ম ধ্বজা উত্তোলন করেন। এরপরই রাম মন্দিরের সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা লাভ হয়। প্রধানমন্ত্রী একদিকে দেশকে শক্তিশালী করছেন, অন্যদিকে আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে আমাদের ঐতিহ্য পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের ত্রিপুরার মানুষ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকাশ ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বারাণসীতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধ্যান কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে কয়েম্বাটুরে ১১২ ফুট উঁচু আদি যোগী শিবের মূর্তি উন্মোচন করেন। ২০২২ সালে একাদশ ভক্তি সাধক শ্রী রামানুজাচার্যের ২১৬ ফুট উঁচু মূর্তি উন্মোচন করেন। বারাণসীতে কাশি বিশ্বনাথ ধাম ও করিডোরের উৎসর্গ করেন। কেদারনাথ ধাম পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২১ সালে গুজরাটে সোমনাথ মন্দিরে সমুদ্র দর্শনের পথ নতুনভাবে মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। কিছুদিন আগে ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের নতুন আঙ্গিকের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ শক্তিশালী হচ্ছে এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়ক অন্তরা দেব সরকার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।



















