আগরতলা, ১৭ জুন: আগামী ৯ ও ১০ জুলাই রাজ্যে ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আজ সচিবালয়ের ২ নং কনফারেন্স হলে মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহার সভাপতিত্বে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রস্তুতি, বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল, অতিথি ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং কনক্লেভের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে কনক্লেভের প্রস্তুতি, বিগত কয়েক বছরে রাজ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ধারা, দেশের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত রোডশো, সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬-এ স্বাস্থ্য, পর্যটন, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, রিয়েল এস্টেট, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, লজিস্টিকস, উৎপাদন শিল্পসহ একাধিক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য হিসেবে ত্রিপুরার সম্ভাবনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা, নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের অংশীজনদের এক অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে আসাই এই কনক্লেভের মূল লক্ষ্য।
সভায় মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা বলেন, ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬ আয়োজন রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই আয়োজন ত্রিপুরার ইতিবাচক অর্থনৈতিক নীতি, উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রতিফলন বহন করছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এই কনক্লেভে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে, যা রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ফলে জাতীয় স্তরে ত্রিপুরার সম্ভাবনা আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মুখ্যসচিব আরও বলেন, আগামী দিনে ত্রিপুরায় শিল্প ও বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ব্যবসা সহজীকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং ব্যবসা সংস্কার বাস্তবায়নে ত্রিপুরার উদ্যোগ সারা দেশে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্য কার্যত একটি দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিনিয়োগকারীরা পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রিপুরায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এটি রাজ্যের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশেরই প্রতিফলন।
মুখ্যসচিব সকল দপ্তর, সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি সকলকে একযোগে কাজ করে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬-কে সফল করার এবং ত্রিপুরাকে দেশের সামনে একটি অনুকরণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিবগণ, অধিকর্তাগণ, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক এবং পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।



















