আগরতলা, ১৭ জুন: আগরতলায় যুব কংগ্রেসের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-এর এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে প্রদেশ যুব কংগ্রেস।
ত্রিপুরা রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে দাখিল করা অভিযোগপত্রে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি নীলকমল সাহা দাবি করেন, গত ১৫ জুন দুপুর প্রায় ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস ভবন থেকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে আরএমএস চৌমুহনী সংলগ্ন আখাউড়া রোডে পৌঁছায়, যেখানে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি, সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ১৪০ ব্যাটালিয়নের সিআরপিএফ বাহিনীও মোতায়েন ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন তিন-তারকা পদমর্যাদার আধিকারিক রাম কুমার।
যুব কংগ্রেসের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন এমন সময় কোনো প্রকার উসকানি বা সংঘর্ষ ছাড়াই রাম কুমার হঠাৎ করে লাঠিচার্জের নির্দেশ দেন এবং নিজেও বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি যুব কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন এবং মহিলা কর্মীদের প্রতিও দুর্ব্যবহার করেন।
এই লাঠিচার্জের ফলে বহু কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় আঘাত, হাড় ভাঙা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর চোট লাগে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কয়েকজন মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের কোনো নির্দেশ ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ফলে এটি কেবল ক্ষমতার অপব্যবহারই নয়, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে যুব কংগ্রেস।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে অবিলম্বে বিষয়টি আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া, অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৫ জুন আগরতলায় অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


















