আগরতলা, ১৭ জুন: উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর থানায় তিন পুলিশকর্মীর বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পরও তারা এখনও পূর্বের কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং সরকারি নির্দেশ কার্যকরের বিষয় নিয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
জানা গেছে, গত ২৩ মে উত্তর জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ধর্মনগর থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর নিকুঞ্জ দেবনাথ, সাব-ইন্সপেক্টর মনোজ কুমার পাল এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নিরঞ্জন মালাকারের বদলির নির্দেশ জারি করা হয়। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ওই তিন পুলিশকর্মী এখনও ধর্মনগর থানাতেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ।
বিশেষ করে সাব-ইন্সপেক্টর মনোজ কুমার পালের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বদলির নির্দেশ জারির পরও তিনি নতুন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন, যা প্রচলিত প্রশাসনিক নিয়ম ও প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকেই। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও সচেতন মহলের বক্তব্য, বদলির মতো সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাদের মতে, পুলিশ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নির্দেশ কার্যকরে ব্যত্যয় ঘটলে তা শাসনব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অতীতে ধর্মনগর এলাকায় জুয়া ও অবৈধ মদ ব্যবসাকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। যদিও ওই অভিযোগগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের প্রমাণ বা সরকারি তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তদন্ত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পূর্ণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের এখনও রিলিভ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে উত্তর জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সরকারি স্তরে নীরবতা বজায় থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পর তা দ্রুত কার্যকর করা এবং বিলম্ব হলে তার কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি।



















