আগরতলা, ১৫ জুন : সামাজিক মাধ্যমে উন্নয়নের নানা চিত্র তুলে ধরা হলেও জোলাইবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে পশ্চিম জোলাইবাড়ী পশুখামার এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জোটের শরিক দল আইপিএফটির প্রার্থী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জোলাইবাড়ী কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পান। সে সময় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা ছিল, তাঁর নেতৃত্বে জোলাইবাড়ী বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে উন্নয়নের প্রচার থাকলেও বাস্তবে বহু এলাকার মৌলিক সমস্যা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, জোলাইবাড়ী দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে গ্যালারি নির্মাণের নামে পুরনো অবকাঠামো সংস্কার করেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের দাবি দেখানো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পশ্চিম জোলাইবাড়ী পশুখামার এলাকার বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমের সামনে রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রাস্তা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে, ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবশেষে সমস্যার সমাধানের আশায় এলাকার মানুষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তা সংস্কার ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এডিসি নির্বাচন নিয়েও এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, জোলাইবাড়ী কেন্দ্রে আইপিএফটি প্রার্থী দেওয়ার ফলে বিজেপির ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তার সুবিধা পেয়েছে বিরোধী দল। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পশ্চিম জোলাইবাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের প্রধান দাবি, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে তাদের দীর্ঘদিনের রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়।



















