আগরতলা, ১৫ জুন : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবং নিট পরীক্ষার দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে আজ শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করে যুব কংগ্রেস। এদিন মিছিলটি আইজিএম হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রগতি রোধ করে। কিন্তু তারপরও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পাশাপাশি লাঠিচার্জও করা হয় বলে অভিযোগ। তাতেই বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী আহত হয়েছেন।
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান অন্যায়, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া লাগামহীন দুর্নীতি, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তোলা আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেওয়া ভয়াবহ বেকারত্বের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে যুব কংগ্রেস। আজ সকালে ওই মিছিলে শতাধিক যুব কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। মিছিলটি আইজিএম হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রগতি রোধ করে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
তবে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশ রুখতে পুলিশ ও সিআরপিএফ আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দ্বিতীয় দফায় জলকামান প্রয়োগের পাশাপাশি লাঠিচার্জও করা হয় বলে অভিযোগ।পুলিশি অভিযানে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায় কয়েকজনকে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতে প্রশাসন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তাদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক অংশ এবং সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনে শক্তি প্রয়োগ করছে।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, সাধারণ রাজনৈতিক বিক্ষোভের ক্ষেত্রে প্রশাসন যে কঠোরতা দেখিয়েছে, তা অতীতে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সবসময় দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কেউ যাতে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আহত বিক্ষোভকারীদের ছবি এবং পুলিশি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আগামী দিনে বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।


















