ইসলামাবাদ, ১৫ জুন (আইএএনএস): প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির জেরে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ার শহরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-র দাম হু হু করে বেড়েছে। এর ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলপিজির দাম প্রতি কিলোগ্রামে ৪০০ পাকিস্তানি রুপি থেকে বেড়ে ৫৫০ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে। অভিযোগ, সুই গ্যাসের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ সরকারের নির্ধারিত এলপিজির মূল্য প্রতি কিলোগ্রাম ৩০০ পাকিস্তানি রুপি।
নিম্নচাপ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘনঘন অনুপস্থিতির কারণে বহু বাসিন্দা বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করছেন। ফলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের হায়দরাবাদ শহরেও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগ সামনে আসে। বাসিন্দাদের দাবি, গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানির (এসএসজিসি) ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে তিন ঘণ্টা করে মোট নয় ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহের কথা। কিন্তু হায়দরাবাদের একাধিক এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এই সীমিত সময়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, সেখানেও চাপ এতটাই কম যে রান্না করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে পাইপলাইনে প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুধু বাতাস বের হয়, তারপর গ্যাস আসতে শুরু করে।
গৃহবধূদের অভিযোগ, গ্যাস এসেছে কি না তা বারবার পরীক্ষা করতে চুলা জ্বালিয়ে রাখতে হয়। ফলে মিটার চলতে থাকে এবং মাসিক বিলও বেড়ে যাচ্ছে।
লতিফাবাদের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গ্যাসের বিল দিচ্ছি, অথচ পাইপলাইনে বাতাস পাচ্ছি। একটি খাবার রান্না করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্নাঘরে কাটাতে হচ্ছে।”
গ্যাস সংকটের ফলে বিকল্প রান্নার সরঞ্জামের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকটপ, সিরামিক কুকার, সৌরচালিত ওভেন এবং ২ থেকে ১২ কেজি ধারণক্ষমতার গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া হালকা ও মরিচা-প্রতিরোধী হওয়ায় ফাইবারগ্লাসের এলপিজি সিলিন্ডারও ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।


















