চেন্নাই, ১৪ জুন (আইএএনএস): রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় তামিলনাড়ুর টিভিকে-নেতৃত্বাধীন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা সেথিল বালাজি। তিনি সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে বালাজি বলেন, ক্ষমতায় এসে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সরকার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে, যার জেরে মানুষ মাঝরাতেও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধে সামিল হচ্ছেন।
তিনি বলেন, “যে সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা মানুষের কাছে শুধু হতাশাই উপহার দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এতটাই ভয়াবহ আকার নিয়েছে যে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ মানুষদেরও রাতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে।”
বালাজি মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়-এর নীরবতার সমালোচনা করেন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী ভি. সেন্থিলকুমার-এর বিরুদ্ধে প্রকৃত সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন।
সম্প্রতি বিদ্যুৎমন্ত্রীর কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ফিউজ ক্যারিয়ার চুরি বা হার্ড ডিস্ক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কীভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
বালাজি বলেন, “দিনের বেলায় হওয়া একটি চুরির ঘটনা রাতের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে কীভাবে? পুরো বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থা কি একটি মাত্র ফিউজ ক্যারিয়ারের উপর নির্ভরশীল? প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে মন্ত্রী গল্প তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়। তাঁর দাবি, এই কর্মীরা বরাবরই নিষ্ঠার সঙ্গে জনসেবা করে এসেছেন।
সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে অন্যদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন ডিএমকে নেতা।
পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বালাজি বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও তাদের আমলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেনি। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে রাজ্যের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৬,৪৮১ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বেড়ে ২০,৯৭৪ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। তবুও ডিএমকে সরকারের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে তামিলনাড়ু দেশের অন্যতম সেরা রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল এবং প্রায় দুই লক্ষ কৃষককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল।
পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে বালাজি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত না থেকে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
ডিএমকে সভাপতি এম. কে. স্ট্যালিন-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “সরকার কিছু সময়ের জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে, কিন্তু চিরকাল নয়।” একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দূর করতে এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।



















