নয়াদিল্লি, ১৩ জুন (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কীর্তি আজাদ শনিবার বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করলেন, বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করা শাসক দলের ‘পুরনো কৌশল’। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতা মদন মিত্র-র বাড়িতে ইডির তল্লাশি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী-র বাড়িতে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার বহু কোটি টাকার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা ও সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তল্লাশির আওতায় আসে উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের সঙ্গে যুক্ত দুটি বাড়িও।
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশের একটি দল শনিবার ভোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুমিত রায়ের খোঁজে তল্লাশি চালায়।
এই ঘটনাগুলি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কীর্তি আজাদ বলেন, “এটা কোনও ব্রেকিং নিউজ নয়। বিরোধী দলগুলিকে টার্গেট করা হয়, অথচ এক শতাংশ মানুষও দোষী সাব্যস্ত হননি। এটা বিজেপির পুরনো পদ্ধতি।”
বিজেপিকে আরও আক্রমণ করে তিনি বলেন, “সম্ভবত এখন তাদের মদন মিত্রকে দরকার। তারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভাঙতে চায়। এতে বিজেপির মানসিকতাই স্পষ্ট হয়। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং নিট প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নজর ঘোরাতে তারা মিডিয়াকে এসব বিষয় নিয়ে ব্যস্ত রাখতে চায়।”
তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী-র নিজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল, তার কী হল? তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এবং সিবিআই মামলাও ছিল।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সেই মামলার কী পরিণতি হল? সেটাও কি ‘ওয়াশিং মেশিনে’ পরিষ্কার হয়ে গেল? আর কাকলি ঘোষ দস্তিদার-ও কি একইভাবে ‘পরিষ্কার’ হয়ে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তর শুভেন্দু অধিকারীকেই দিতে হবে।”
কীর্তি আজাদের এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ ২০১৬ সালে প্রকাশ্যে আসা নারাদা স্টিং অপারেশন-এর সঙ্গে যুক্ত। ওই স্টিং অপারেশনে তৎকালীন একাধিক তৃণমূল নেতাকে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই তালিকায় শুভেন্দু অধিকারী এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নামও ছিল।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) চারজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি চেয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিল। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন।
























