আগরতলা, ১১ জুন: বাইখোড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হলেন এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে তিনি তাঁর ওপর সংঘটিত হামলা, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং অভিযোগের পরও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাইখোড়া থানার অধীন জোলাইবাড়ীর মধ্যপিলাক এলাকার বাসিন্দা দীপালী মজুমদারকে একই এলাকার বাসিন্দা নির্মল বিশ্বাস, তাঁর ছেলে সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। আক্রান্ত গৃহবধূর দাবি, হামলার পাশাপাশি নির্মল বিশ্বাস তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করেন।
বর্তমানে দীপালী মজুমদার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও নির্মল বিশ্বাস বিভিন্নভাবে তাঁকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা তাঁর এবং তাঁর কন্যা সন্তানের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বাইখোড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষ্ণুচন্দ্র দাস কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
আক্রান্ত পরিবারের আরও অভিযোগ, মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশের কাছে সুবিচার না পেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গৃহবধূ। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাইখোড়া থানার ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, অতীতেও একাধিক অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশাসন অভিযোগগুলির তদন্ত করে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। :::
























