নয়াদিল্লি, ১১ জুন (আইএএনএস): ২০২৬ সালের মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপকে ঘিরে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর বেথ ব্যারেট-ওয়াইল্ড। তাঁর বিশ্বাস, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গোটা বিশ্ব নারী ক্রিকেটের প্রেমে পড়বে।
আগামী ১২ জুন এজবাস্টন-এ শুরু হবে ১২ দলের এই মেগা টুর্নামেন্ট, যা চলবে ৫ জুলাই পর্যন্ত। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড-এ। সাতটি ভেন্যুতে মোট ৩৩টি ম্যাচ আয়োজিত হবে।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেথ বলেন, “গত ১২ থেকে ১৮ মাস ধরে আমরা এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সফল টুর্নামেন্ট আয়োজন নয়, নারী ক্রিকেটকে মূলধারায় নিয়ে আসা। আমরা চাই, এই গ্রীষ্মে একটি দেশ এবং বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা নারী ক্রিকেটের প্রতি নতুন করে আকৃষ্ট হোক এবং এর বিশ্বমানের গুণমানকে স্বীকৃতি দিক।”
তিনি জানান, ২০০৯ সালের পর এই প্রথম ইংল্যান্ডে মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলোয়াড়দের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতায়াত, আবাসন, অনুশীলন ও ম্যাচ ভেন্যুর মানোন্নয়নে।
বেথের কথায়, “আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য খেলোয়াড়দের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মাঠের বাইরে নারী ক্রিকেটের দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর জন্যও ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে।”
টুর্নামেন্টের আয়োজকদের লক্ষ্য ২ লক্ষ ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিতি নিশ্চিত করা। তা হলে ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ভেঙে যাবে। সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি)-তে পূর্ণ দর্শকাসনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বেথ বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ টিকিট বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করেছি। ২ লক্ষ ৭০ হাজার দর্শকের লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে এটি হবে ইতিহাসের সর্বাধিক দর্শকসমাগম হওয়া মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ।”
টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি জানান, এ বার টিকিট ক্রেতাদের ৩৬ শতাংশই মহিলা, যা ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজিত কোনও ক্রিকেট ইভেন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।
“পুরুষদের ক্রিকেটে সাধারণত ৮০ শতাংশ টিকিট পুরুষ দর্শকেরা কেনেন। কিন্তু এই বিশ্বকাপে ৩৬ শতাংশ টিকিট কিনেছেন মহিলারা। এছাড়া প্রায় ২৩ শতাংশ টিকিট শিশুদের জন্য বিক্রি হয়েছে,” বলেন তিনি।
নারী ক্রিকেটের দর্শক বাড়াতে চার ধরনের দর্শকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানান বেথ— ক্রিকেটের নিবেদিত অনুরাগী, সব ধরনের ক্রিকেটপ্রেমী, ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর মাধ্যমে আকৃষ্ট নতুন দর্শক এবং বড় ক্রীড়া আসরের প্রতি আগ্রহী সাধারণ দর্শক।
তাঁর মতে, এখনও যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্রীড়াপ্রেমী ক্রিকেটকে মূলত পুরুষদের খেলা হিসেবেই দেখেন। সেই ধারণা বদলানোই অন্যতম লক্ষ্য।
“আমরা চাই আরও বেশি মানুষ ক্রিকেটকে নারী-পুরুষ সমানভাবে অংশগ্রহণকারী একটি খেলা হিসেবে দেখুক। সেই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য,” বলেন তিনি।
সম্প্রচার ব্যবস্থাতেও পুরুষদের বিশ্বকাপের সমমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানান বেথ। ৩০টিরও বেশি ক্যামেরা, ড্রোন, স্পাইডার ক্যাম এবং বাগি ক্যামেরার সাহায্যে ম্যাচ সম্প্রচার করা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা দেখাতে চাই যে নারী ক্রিকেট পুরুষদের ক্রিকেটের চেয়ে কম মানের নয়, বরং ভিন্ন ধরনের এবং সমানভাবে আকর্ষণীয়। নারী ক্রিকেটে বোলিংয়ের নির্ভুলতা বেশি, উইকেটে বল লাগার হারও বেশি। টি-২০ ক্রিকেটে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ম্যাচে বেশি দুই রান নেওয়া হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলিই আমরা তুলে ধরতে চাই।”
‘ক্যাচ দ্য স্পিরিট’ স্লোগান নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপকে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বেথ।
তাঁর কথায়, “এটি শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়। আমরা চাই এই বিশ্বকাপ নারী ক্রিকেট সম্পর্কে মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনুক। আমি সত্যিই অপেক্ষা করছি এই গ্রীষ্মে বিশ্বজুড়ে মানুষ নারী ক্রিকেটের প্রেমে পড়বে সেই মুহূর্তের জন্য।”
_______



















