আগরতলা, ১১ জুন: ত্রিপুরার বহুল প্রতীক্ষিত ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২৮ কোটি টাকার সালিশি নিষ্পত্তি হওয়ার পরও স্টেডিয়ামের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ত্রিপুরা ক্রিকেটার্স ফোরাম।
ফোরামের দাবি, ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিসিএ) ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল আরকেএসসিপিএল-এর সঙ্গে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে নির্মাণ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিষয়টি সালিশি পর্যায়ে পৌঁছায়।
ত্রিপুরা ক্রিকেটার্স ফোরামের অভিযোগ, সালিশি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরকেএসসিপিএলকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার পরও স্টেডিয়াম এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের হস্তান্তরও সম্ভব হয়নি।
ফোরামের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামটি ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত নয় এবং স্টেডিয়াম কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
এদিকে, স্টেডিয়ামের জন্য গডরেজের আসবাবপত্র কেনাকে কেন্দ্র করেও নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ত্রিপুরা ক্রিকেটার্স ফোরামের আরও দাবি, স্টেডিয়ামের জন্য চেয়ার কেনার ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। ফোরামের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা টিসিএর বিভিন্ন বৈঠকের কার্যবিবরণীরও উল্লেখ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণের অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্রীড়াপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, বিষয়গুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এবং ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।
তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে টিসিএর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



















