আগরতলা, ৯ জুন: কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজা জমাতিয়ার সঙ্গে ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক ও বিধায়ক কল্যাণী সাহা রায়-এর আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ত্রিপুরা স্টেট মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রাক্তন সভাপতি ডা. বিজয় দেববর্মা। তিনি বলেন, কোনও জনপ্রতিনিধিরই কর্তব্যরত কোনও পেশাজীবীকে প্রকাশ্যে অপমান করার অধিকার নেই।
সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. দেববর্মা বলেন, কোনও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনিক স্তরে উত্থাপন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিকর্তা, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমও) কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন রাজ্যে একই দলের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, তখন প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রকাশ্যে এমন আচরণের প্রয়োজনীয়তা কোথায়।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব, ফেসবুক লাইভ বা প্রচারমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নয়। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এবং প্রকৃত সমস্যাগুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে দেয়।
ডা. দেববর্মার মতে, কোনও বিধায়ক আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। সংবিধান কাউকে কোনও নাগরিকের মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অধিকার দেয়নি। একজন সম্মানিত পেশাজীবীকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করে তার ভিডিও ভাইরাল করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাক্তন টিএসএমসি সভাপতি বলেন, রাজ্যের চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি অনেক সময় তাঁদের শারীরিক আক্রমণেরও মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানো দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য মুখ্য সচেতকের প্রতি আহ্বান জানান ডা. দেববর্মা। পাশাপাশি চিকিৎসক সংগঠনগুলিকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও চিকিৎসককে প্রকাশ্যে অপমান বা হেয় প্রতিপন্ন করার সংস্কৃতি বরদাস্ত করা উচিত নয়।























