নয়াদিল্লি, ৯ জুন (আইএএনএস): আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসংস্কারক বিরসা মুন্ডা-র শহিদ দিবসে মঙ্গলবার তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, মাতৃভূমির জন্য তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের গাথা দেশের প্রতিটি প্রজন্মকে দেশপ্রেমের চেতনায় অনুপ্রাণিত করে যাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “‘ধরতি আবা’ ভগবান বিরসা মুন্ডার শহিদ দিবসে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম। জল, জঙ্গল ও জমি রক্ষার জন্য তিনি অদম্য সাহসের সঙ্গে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “আদিবাসী সমাজের আত্মসম্মান, সংস্কৃতি এবং অধিকার রক্ষার জন্য তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গিত ছিল। মাতৃভূমির জন্য তাঁর সর্বোচ্চ আত্মবলিদানের কাহিনি দেশের প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করবে।”
ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট আদিবাসী নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে বিরসা মুন্ডা আজও সমাদৃত। ১৮৭৫ সালে বর্তমান ঝাড়খণ্ডে তাঁর জন্ম। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং আদিবাসীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া শোষণমূলক ভূমি নীতির বিরুদ্ধে তিনি ঐতিহাসিক ‘উলগুলান’ বা ‘মহাবিদ্রোহ’-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তাঁর নেতৃত্বে হাজার হাজার আদিবাসী নিজেদের অধিকার, পরিচয় এবং ঐতিহ্যগত জমির মালিকানা রক্ষার আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। যদিও তাঁর আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল ছোটনাগপুর অঞ্চল, তবুও তাঁর সংগ্রামের প্রভাব ও উত্তরাধিকার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে।
বিশেষ করে অসমের বৃহৎ আদিবাসী ও চা-জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরসা মুন্ডার স্মৃতি এখনও গভীরভাবে জীবিত। ঔপনিবেশিক আমলে ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে অসমে আসা বহু চা-বাগান শ্রমিক পরিবারের শিকড় সেই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের কাছে বিরসা মুন্ডা প্রতিরোধ, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের প্রতীক।
আদিবাসী অধিকার রক্ষায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর জন্মদিন ১৫ নভেম্বরকে ‘জঞ্জাতীয় গৌরব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই দিনটি আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদানকে স্মরণ এবং ভারতের সমৃদ্ধ আদিবাসী ঐতিহ্যকে উদ্যাপনের জন্য পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯০০ সালের ৯ জুন মাত্র ২৫ বছর বয়সে ব্রিটিশদের হেফাজতে বিরসা মুন্ডার মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর সংগ্রাম, আদর্শ ও আত্মত্যাগ আজও দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।



















