আগরতলা, ৩ জুন: ত্রিপুরায় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার প্রসার ও উচ্চশিক্ষায় এর পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন ন্যাশনাল সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বুল্টি দাস।
সম্প্রতি ড. দাস সামাজিক মাধ্যমে ত্রিপুরায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে সংস্কৃত শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক গঠনমূলক মতামত প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সেই পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েই শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে সংস্কৃত শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ড. দাস রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ে সংস্কৃতকে একটি বিষয় হিসেবে চালু করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরেও এর বিস্তারের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, আধুনিক যুগে সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে ডিজিটাল মার্কেটিং এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতো বিষয়ের সংযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশের একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাও সংস্কৃত ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মী খুঁজছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে ড. দাস বলেন, সংস্কৃত বিষয়ের পরীক্ষাগুলি সংস্কৃত ভাষাতেই হওয়া উচিত এবং প্রশ্ন ও উত্তর উভয়ই সংস্কৃতে হওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংস্কৃত ভাষার উন্নয়নে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তা রাজ্য আরও বেশি কাজে লাগাতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, ড. বুল্টি দাসের মূল্যবান মতামত ও প্রস্তাবগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিষয়গুলি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা, ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে নাগরিকদের গঠনমূলক পরামর্শ এবং ইতিবাচক অংশগ্রহণ সবসময়ই স্বাগত। সমালোচনা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা উন্নয়নের স্বার্থে এবং যুক্তিনির্ভর হয়।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা বৈঠকে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

















