নয়াদিল্লি, ২৮ মে (আইএএনএস): সেকেন্দ্রাবাদ সরকারি রেল পুলিশ (জিআরপি) এবং রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর যৌথ অভিযানে দেবগিরি এক্সপ্রেস থেকে ১ কোটি ২২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার সন্দেহভাজন হাওলা অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। মুম্বই থেকে সেকেন্দ্রাবাদগামী এক যাত্রীর কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয় বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে পুলিশ।
ধৃত ব্যক্তির নাম বিজয় অম্বাদাস গুপ্তা (৪০)। তিনি মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার সাই নগরের বৃন্দাবন কলোনির বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬ মে ট্রেন নম্বর ১৭০৫৭ দেবগিরি এক্সপ্রেসে জিআরপি ও আরপিএফ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালায়। দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ বোল্লারাম ও মালকাজগিরি রেলস্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় সন্দেহজনকভাবে একটি ব্যাগ বহন করতে দেখে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিজয় অম্বাদাস গুপ্তা জানান, “সন্তোষ শেঠ” নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি এই নগদ অর্থ পেয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি মুম্বইয়ে “কন্থা জুয়েলারি” নামে একটি ব্যবসা চালান বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আরও জানান, তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেকেন্দ্রাবাদে গিয়ে এই টাকা “বান্টি” নামে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিতে। বান্টি সেকেন্দ্রাবাদের মন্ডা মার্কেটে একটি গয়নার দোকান চালান বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, নগদ অর্থ বহনের জন্য অভিযুক্তকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই অর্থ গয়নার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাওলা লেনদেনের অংশ হতে পারে।
তবে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা বা ব্যবহারের বিষয়ে কোনও বৈধ নথি বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি অভিযুক্ত।
এরপর দুই মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতিতে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র এবং ট্রেনের টিকিটও তদন্তের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই অভিযান পরিচালনা করেন আইআরপি/এসএইচও বি. সাইঈশ্বর গৌড় এবং এসআইআরপি টি. মাধব তাঁদের দলবল নিয়ে। আরপিএফ-এর পক্ষ থেকে অভিযানে অংশ নেন ডি.ভি. নরসিমা রাও, সঞ্জীব রাও এবং হায়দরাবাদ ডিভিশনের সিপিডিএস টিম।
সমগ্র অভিযানটি তদারকি করেন রেল পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেনডেন্ট সন্দীপ, সিনিয়র ডিএসসি/আরপিএফ হায়দরাবাদের দেবাশ্মিতা সি. বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিএসআরপি এসসি(ইউ)-এর এস.এন. জাভেদ এবং আরপিএফ হায়দরাবাদের সহকারী নিরাপত্তা কমিশনার রবি শর্মা।
রেল ও সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের আইজিপি কে. রমেশ নাইডু জিআরপি ও আরপিএফ দলের কাজের প্রশংসা করেছেন এবং অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা করেছেন।



















