নয়াদিল্লি, ২৮ মে (আইএএনএস): সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি ঘিরে বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বৃহস্পতিবার আশ্বাস দিয়ে বলেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত গাফিলতি বা অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। প্রধানের অভিযোগ, একের পর এক নির্বাচনী পরাজয়ের জেরে হতাশা থেকেই রাহুল গান্ধী সরকারের প্রতিটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “প্রায় ৪০ কোটি স্ক্যান করা পৃষ্ঠার ডিজিটাল মূল্যায়ন করেছে সিবিএসই। প্রায় ১৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং প্রায় ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিটি উত্তরপত্রে গড়ে ৪০টি পৃষ্ঠা রয়েছে। প্রথমবারের মতো অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।”
ওএসএম-কে ছাত্রবান্ধব ও আধুনিক উদ্যোগ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই ধরনের ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, “এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পড়ুয়ারা নিজেদের উত্তরপত্র দেখতে পারে এবং নম্বর সংক্রান্ত সংশয় দূর করতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ মাথায় রেখেই ওএসএম চালু করা হয়েছে। তবে কিছু ত্রুটি সামনে এসেছে এবং তার দায় আমি নিচ্ছি। কোনও ছাত্রের প্রশ্নের উত্তর বাকি থাকবে না।”
তিনি জানান, প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত সমস্যার সমাধানে আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞ দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বলেন, “আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। অর্থমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ করা হয়েছে যাতে পেমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করা যায়। বর্তমানে সিবিএসই পোর্টাল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা এবং ক্যানারা ব্যাঙ্কের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও ইচ্ছাকৃত অনিয়ম বা গাফিলতি ধরা পড়ে, তাহলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। গণতন্ত্রে সকলকেই জবাবদিহি করতে হয় এবং আমরা দায় এড়িয়ে যাচ্ছি না।”
রাহুল গান্ধীর অভিযোগের জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “সিবিএসই ইতিমধ্যেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতিমালা মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোনও গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “রাহুল গান্ধী এখন এমন এক মানসিক অবস্থায় রয়েছেন যেখানে তিনি প্রতিটি বিষয়েই বিরোধিতা করছেন। ইভিএম হোক, ডিজিটাল ইন্ডিয়া হোক বা অন্য কোনও সংস্কার— তিনি সব কিছুর বিরোধিতা করেছেন। দেশের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না।”
শিক্ষার্থীদের বিষয় নিয়ে রাজনীতি না করার আবেদনও জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এটা রাজনীতির সময় নয়। পরীক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ানো উচিত নয়।”
উল্লেখ্য, বুধবার রাহুল গান্ধী সিবিএসই-র ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বেসরকারি সংস্থা ‘কোএম্পট এডুটেক’-কে চুক্তি দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেন। এর জবাবে সিবিএসই জানায়, সমস্ত প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের সাধারণ আর্থিক বিধি (জেনারেল ফিনান্সিয়াল রুলস) মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (আরএফপি) ২০২৫ সালের ২৮ অগস্ট কেন্দ্রীয় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট পোর্টালে প্রকাশ করা হয়েছিল।
সিবিএসই-র দাবি, “যোগ্য সংস্থাকেই নিয়ম মেনে চুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ বিভ্রান্তিকর এবং তথ্যভিত্তিক নয়।”



















