কলকাতা, ২৭ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের চালু করা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ অবৈধ সুবিধাভোগী মাসিক ভাতা পাচ্ছিলেন বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই ৩০ লক্ষ ‘অবৈধ’ সুবিধাভোগী বাদে বাকি সমস্ত উপভোক্তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই নতুন প্রকল্পই ভবিষ্যতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বৈধ সুবিধাভোগীরা নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো প্রকল্পের সুবিধা পেতে থাকবেন। পরে অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মাসিক ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী সকলকে দ্রুত অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নাম নথিভুক্ত করার আবেদন জানান। বুধবার থেকেই প্রকল্পের জন্য সরকারি পোর্টাল চালু হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, অনলাইন এবং অফলাইন— দুই ভাবেই নাম নথিভুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই এমন ব্যবস্থাও চালু হবে, যেখানে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন নেই। তিন মাস ধরে নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া চলবে।”
তিনি আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির অগ্রগতি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানাবেন রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ-ও স্পষ্ট করেন, কারা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না।
তাঁর বক্তব্য, “শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী ভারতীয় মহিলারাই এই প্রকল্পের টাকা পাবেন। অ-ভারতীয়, আয়করদাতা, অথবা সরকারি ও সরকার-পোষিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।”
তিনি আরও দাবি করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এমনকি পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা নিচ্ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাই করা হয়েছে। কিন্তু পরে একাধিক অভিযোগ এসেছে। প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের নাম স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালেও আবেদন করেননি, অথচ এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।”
তিনি জানান, সেই কারণেই সকলকে নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণের অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে এই ধরনের নামগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া যায়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর অধীনে যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে কিন্তু তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের আপাতত ব্যতিক্রম হিসেবে তালিকায় রাখা হবে।
______



















