নয়াদিল্লি, ২২ মে (আইএএনএস): বিহারে এনকাউন্টার প্রসঙ্গে ‘আগে জাত জিজ্ঞেস করুন, তারপর গুলি চালান’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে। যদিও এনডিএ শিবির পাল্টা জানিয়েছে, অপরাধীদের কোনও জাত হয় না।
প্রসঙ্গত, তেজস্বী যাদব অভিযোগ করেছিলেন যে বিহারে “জাতভিত্তিক এনকাউন্টার” হচ্ছে। তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ব্যঙ্গ করে বলেন, “কেউ কেউ বলছেন, পুলিশ এনকাউন্টার করার আগে অপরাধীর জাত জেনে নিক। তাহলে পুলিশকে বলছি, ঠিক আছে, আগে জাত জিজ্ঞেস করুন, তারপর গুলি চালান।”
এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র রাজপুত। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কার্যত অপরাধমূলক। যদি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে এনকাউন্টার ঘটায়, তাহলে পুলিশ ও সরকার দু’পক্ষই হত্যাকারী।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই মন্তব্যের জন্য দেশের শীর্ষ আদালত মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠাতে পারে।
কংগ্রেস নেতা অজয় কুমার লাল্লু অভিযোগ করেন, বিজেপি-শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো বিহারেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি-র মুখপাত্র অশুতোষ বর্মা বলেন, “বিহার, অসম, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে কে বেশি কড়া হিন্দুত্ববাদী, কে বেশি এনকাউন্টার করবে বা বুলডোজার চালাবে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে।”
তাঁর অভিযোগ, আইনের শাসনের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হচ্ছে।
তবে বিহার বিজেপি সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেন, অপরাধীদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে “গুলির জবাব গুলিতেই দেওয়া হবে”।
তিনি বলেন, “বিহারে অপরাধীরা হয় অপরাধ ছাড়ুক, নয়তো রেহাই পাবে না।”
এদিকে জনতা দল (ইউনাইটেড)-র মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদ বলেন, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জাত দেখে নেওয়া হয় না। তেজস্বী যাদবের প্রশ্ন করা উচিত কেন তিনি অপরাধ দমনে পুলিশের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছেন।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধীদের কোনও ধর্ম বা জাত নেই।”
বিজেপি বিধায়ক সি. পি. সিং-ও বলেন, “অপরাধী মানে অপরাধী। সে রাজপুত, ব্রাহ্মণ, বনিয়া বা যাদব— যে কোনও সম্প্রদায়ের হতে পারে।”
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী হংসরাজ বিশ্বকর্মা-ও মন্তব্য করেন, “সম্রাট চৌধুরীর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। জাত নির্বিশেষে অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত।”



















