নয়াদিল্লি/আমস্টারডাম, ২১ মে (আইএএনএস): নেদারল্যান্ডস সফরে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং লোকশিল্পের অনন্য পরিচয় তুলে ধরতে ডাচ নেতৃত্বের জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত উপহার প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
উপহারের তালিকায় ছিল জয়পুরের বিখ্যাত ব্লু পটারি, মিনাকারি ও কুন্দন অলঙ্কার এবং একটি মধুবনী চিত্রকর্ম। এই প্রতিটি উপহারই ভারতের শিল্পঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গভীরতার আলাদা দিক তুলে ধরে।
নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম-আলেকজান্ডারের জন্য প্রধানমন্ত্রী উপহার দেন রাজস্থানের জয়পুরের জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত ব্লু পটারির একটি বিশেষ শিল্পকর্ম। উজ্জ্বল কোবাল্ট নীল, সাদা ও হলুদ নকশার জন্য এই শিল্পবিশেষ বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লু পটারির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর তৈরির কৌশল। এটি সাধারণ মাটির পাত্রের মতো নয়; বরং কোয়ার্টজ পাউডার, গুঁড়ো কাচ এবং ফুলার্স আর্থের বিশেষ মিশ্রণে তৈরি হয়। এর ফলে শিল্পকর্মে কাচের মতো উজ্জ্বলতা ও স্বচ্ছতা আসে। সূক্ষ্ম ফুল ও পাখির নকশাও এতে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
এই শিল্পের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের ঐতিহ্যবাহী ডেলফট ব্লু পটারিরও একটি সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে, যা দুই দেশের শিল্প-ঐতিহ্যের প্রতি অভিন্ন শ্রদ্ধাবোধের প্রতীক বলে মনে করা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমার জন্য প্রধানমন্ত্রী উপহার দেন মিনাকারি ও কুন্দন কারুকাজের একজোড়া কানের দুল। রাজস্থানের এই দুই ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কার নির্মাণশৈলী ভারতের রাজকীয় শিল্পকলার অন্যতম নিদর্শন।
মিনাকারি শিল্পে ধাতুর উপর রঙিন এনামেল কাজ করা হয়, আর কুন্দন পদ্ধতিতে সোনার পাতের সাহায্যে কাটা না-হওয়া মূল্যবান পাথর বসানো হয়। এই অলঙ্কারে ব্যবহৃত কমলা ও নীল রঙও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কমলা রং নেদারল্যান্ডসের রাজপরিবার ‘হাউস অফ অরেঞ্জ-নাসাউ’-এর প্রতীক, অন্যদিকে নীল রং দেশটির জলসম্পর্কিত ঐতিহ্য ও শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের জন্য প্রধানমন্ত্রী উপহার দেন মাছের নকশাযুক্ত একটি মধুবনী চিত্রকর্ম। ভারত ও নেপালের মিথিলা অঞ্চলের এই লোকশিল্প তার সূক্ষ্ম নকশা ও উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারের জন্য সুপরিচিত।
মধুবনী শিল্প ঐতিহ্যগতভাবে নারীদের হাতে বিকশিত হয়েছে এবং এতে প্রকৃতি, দেবদেবী ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। মাছ, পাখি, ফুল ও গাছের মতো প্রতীক এতে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।
চিত্রকর্মে ব্যবহৃত মাছের নকশা উর্বরতা, সমৃদ্ধি, সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। একইসঙ্গে এটি পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীবনের ধারাবাহিকতারও প্রতিফলন।
এই শিল্পকর্মের ভাবনা নেদারল্যান্ডসের আফসলাউইটডাইক এলাকার ‘ফিশ মাইগ্রেশন রিভার’ প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
এই বিশেষ উপহারগুলির মাধ্যমে শুধু ভারতের শিল্পঐতিহ্যই নয়, ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগ, সৃজনশীলতা এবং অভিন্ন মূল্যবোধের বার্তাও তুলে ধরা হয়েছে।


















