বেঙ্গালুরু, ১৯ মে : ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে বিশ্বখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবেগঘন ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ঋষি-মুনি ও সাধু-সন্তদের অবদান এবং ‘আর্ট অব লিভিং’-এর বিশ্বব্যাপী প্রভাবের প্রশংসা করেন।
গুরুজির ৭০তম জন্মবার্ষিকী এবং ‘আর্ট অব লিভিং’ আন্দোলনের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিপ্লব দেব বলেন, ভারতবর্ষ যুগ যুগ ধরে তার আধ্যাত্মিকতা এবং চিরন্তন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
তিনি বলেন, ভারত এমন একটি দেশ, যাকে কেউ কখনও মুছে ফেলতে, ভাঙতে বা বিভক্ত করতে পারেনি। আমি এই পবিত্র ভারতভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছি এবং এজন্য আমি গর্বিত।
ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই দেশেই জন্ম নিয়েছেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাধক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বরা, যেমন গৌতম বুদ্ধ, মহাবীর এবং গুরু গোবিন্দ সিং। শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর সম্পর্কে তিনি বলেন, ভদ্রা নদীর তীরে জন্ম নেওয়া এই আধ্যাত্মিক নেতা আজ বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ভারতের শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
বিপ্লব দেব বলেন, ভারত আধ্যাত্মিকতার জন্য বিশ্বে পরিচিত। গুরুদেব ভারতের প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানকে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রাচীন সনাতন সংস্কৃতি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ও সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সন্ধানে আসতেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে বিপ্লব দেব বলেন, দেশের নেতৃত্বে একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা রয়েছেন, যিনি ভারতকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছেন।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ভারত সর্বোচ্চ ছিল, আছে এবং থাকবে। কেউ ভারতকে মাথা নত করাতে পারবে না।
শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের আশীর্বাদ কামনা করে তিনি বলেন, ভারতকে “বিশ্বগুরু” এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে তিনি ও অসংখ্য কর্মী নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
‘আর্ট অব লিভিং’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বিপ্লব দেব বলেন, আধুনিক সমাজে মানুষ ক্রমশ মানসিক চাপ ও উদ্বেগে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ‘আর্ট অব লিভিং’-এর মতো উদ্যোগ মানুষকে মানসিক শান্তি ও স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
ভাষণের শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং পুনরায় শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ বিশ্বজুড়ে পাওয়া নানা সম্মান ও পুরস্কারের থেকেও অনেক বড় সম্মানের বিষয়।



















