নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ মে: রাজধানীর জিবি হাসপাতালে কর্মরত এক টেকনিক্যাল স্টাফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন এক মহিলা। অভিযোগ, প্রায় এক বছর কেটে গেলেও মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নন্দননগর এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার অভিযোগ, জিবি হাসপাতাল-এর বায়োমেডিক্যাল বিভাগের টেকনিক্যাল স্টাফ শতরাজ কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যক্তিগত ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করছিল। পরে ভিডিওটি মুছে ফেলার আশায় তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে দেখা করতে গেলে হাসপাতালের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা।
মহিলার আরও দাবি, ঘটনার প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত শতরাজ কর্মকার এবং কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী মিলে তাকে মারধর করে এবং উল্টে তাকে চুরির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার পর নির্যাতিতা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে আগরতলা পূর্ব মহিলা থানা-য় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ, এতদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে সুবিচার দিতে পারেনি। বরং বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
নির্যাতিতার অভিযোগ, বারবার থানায় যোগাযোগ করার পরও কার্যকর তদন্তের বদলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি মূল অভিযুক্ত শতরাজ কর্মকারকে বাঁচানোর জন্য তার এক সিনিয়র সহকর্মী, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার রাতুল দে, বিভিন্ন মহলে তৎপরতা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ায় অবশেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন নির্যাতিতা। ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলের তরফের।



















