কৈলাসহর, ১৮ মে: কৈলাসহর ৫৩ বিধানসভা কেন্দ্রের ছয়বারের বিধায়ক বীরজিৎ সিনহার বিজেপিতে যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। রাজ্যের একটি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শুরু হয় জোর চর্চা। তবে সেই জল্পনায় স্পষ্ট ইতি টানলেন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা নিজেই।
সংবাদটি নজরে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা জানান, বিজেপিতে যোগদানের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, এর আগেও একদল চক্রান্তকারী ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিল। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় যখন কংগ্রেসের অত্যন্ত দুর্বল সময় চলছিল, তখন তিনিই দলের হাল ধরেছিলেন এবং সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বীরজিৎ সিনহা আরও বলেন, বর্তমানে একটি চক্রান্তকারী গোষ্ঠী তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। যদিও সেই গোষ্ঠী তাঁর নিজের দলের কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তিনি কংগ্রেসে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও কংগ্রেসেই থাকবেন। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের বিপদের সময় তিনি দল ত্যাগ করেননি। বরং একাই দলের হাল ধরেছিলেন, সঙ্গে ছিলেন মাত্র দুইজন বিধায়ক। বীরজিৎ সিনহা জানান, ২০১৮ সালে একাই বিজেপির বিরুদ্ধে সারা রাজ্যে প্রার্থী দিয়ে লড়াই করেছিলেন।
আগামী দিনে গোটা ঊনকোটি জেলাসহ সমগ্র ত্রিপুরা জুড়ে কংগ্রেস সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি। ২০২৪ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঊনকোটি জেলায় ব্লক দখল থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদে কংগ্রেসের জয় হয়েছে।
শেষে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রচারে কান না দিতে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে এগিয়ে আসতে।
উল্লেখ্য, এখনও ঊনকোটি জেলায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক বৃদ্ধি অনেক বেশি। কংগ্রেস নেতা বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, মোঃ বদরুজ্জামান এবং দলীয় কর্মীরা একযোগে কাজ করার ফলে দিন দিন সংগঠন বৃদ্ধি পাচ্ছে।



















