গান্ধীনগর, ১৭ মে (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রবিবার তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের স্মৃতি তুলে ধরে পাটান জেলার বিখ্যাত পাটন পাটোলা বুননশিল্পের সূক্ষ্ম ও বৈজ্ঞানিক নকশার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের ঐতিহ্যবাহী নকশা ও ডিজাইন ঐতিহ্যকে আরও বড় পরিসরে স্বীকৃতি ও বিস্তার দেওয়া প্রয়োজন।
গান্ধীনগরে জাতীয় নকশা ইনস্টিটিউট (এনআইডি)-এর ইনকিউবেশন ও ইনোভেশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আধুনিক শিল্প ও জনজীবনে ডিজাইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
১৯৮২ সালে পাটন সফরের স্মৃতিচারণ করে অমিত শাহ বলেন, সে সময় তিনি পাটোলা বুনন শিল্পের কারিগরি দক্ষতা ও সূক্ষ্ম শিল্পকৌশল দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “যাঁরা পাটন পাটোলা দেখেছেন, তাঁরা জানেন কতটা নিখুঁত, সূক্ষ্ম এবং বৈজ্ঞানিকভাবে এর নকশা তৈরি করা হয়।”
অমিত শাহ জানান, স্থানীয় কর্মী কে.সি. প্যাটেলের সঙ্গে তিনি এক পাটোলা বুননশিল্পী পরিবারের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বুননের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁর কৌতূহল এতটাই ছিল যে তিনি শিল্পীদের কাছে বিস্তারিতভাবে কাজের পদ্ধতি জানতে চেয়েছিলেন।
তাঁর কথায়, “আমি বলছি, এমন বৈজ্ঞানিক নকশা ও রঙের সমন্বয় সম্ভবত পৃথিবীর আর কোথাও খুব কমই দেখা যায়।”
তিনি বলেন, পাটোলা শিল্প প্রমাণ করে যে ভারতের মধ্যে বহু প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ডিজাইন ঐতিহ্য ও শিল্প প্রতিভা রয়েছে, যা আরও খুঁজে বের করে আধুনিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
অমিত শাহের মতে, ডিজাইনকে শুধু সৌন্দর্য বা সাজসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকারিতা, ব্যবহারিকতা এবং জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, শিল্প পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ নির্মাণের মতো উচ্চ প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ডিজাইনের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এনআইডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভাকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজাইন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হলে তরুণ ডিজাইনাররা আরও বেশি সুযোগ ও স্বীকৃতি পাবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূপেন্দ্র প্যাটেল, পীযূষ গয়াল, হর্ষ সাঙ্ঘভি-সহ এনআইডির পদাধিকারী, শিক্ষক ও পড়ুয়ারা।


















