বিলোনিয়া, ১৪ মে : দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার রাজনগর এলাকায় অবস্থিত তৃষ্ণা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বর্তমানে আবারও চর্চায় এসেছে লুপ্তপ্রায় প্রাণী বাইসনের উপস্থিতিকে ঘিরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই অভয়ারণ্য বহু বছর ধরেই রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় গৌর বা বাইসনের সংরক্ষণ, মুক্ত বিচরণ এবং প্রজননের উদ্দেশ্যে সরকার এখানে গড়ে তুলেছে বিশেষ “বাইসন ন্যাশনাল পার্ক” এলাকা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এক সময় এই অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যায় বাইসন দেখা মিললেও ধীরে ধীরে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের অভাব এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এদের সংখ্যা কমে আসে। বর্তমানে তৃষ্ণা অভয়ারণ্যেই এখনো কিছুসংখ্যক বাইসন টিকে রয়েছে। তাদের সুরক্ষিত রাখতেই সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রতিবছর রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পর্যটক এই অভয়ারণ্যে আসেন বাইসন দেখার আশায়। বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এই স্থান যথেষ্ট জনপ্রিয়। শীতকাল এবং বর্ষার শুরুতে অভয়ারণ্যের মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। তবে বহু পর্যটকের অভিযোগ, অভয়ারণ্যে এসেও অনেক সময় বাইসনের দেখা মেলে না।
স্থানীয় বনকর্মীরা জানান, বিশেষ করে মে, জুন এবং জুলাই মাসে খাদ্যের সন্ধানে বাইসনগুলি গভীর জঙ্গল ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করতে থাকে। অনেক সময় তারা লোকালয়ের দিকেও চলে আসে। কারণ এই সময় জঙ্গলে পর্যাপ্ত ঘাস ও জল না থাকায় খাবারের সন্ধানে তাদের বনাঞ্চলের বাইরে বেরিয়ে পড়তে হয়। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
রাজনগর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, মাঝে মধ্যেই রাতের বেলায় বাইসনের দল ধানক্ষেত বা গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়। যদিও এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই, তবুও বনদপ্তরকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাইসনদের নিরাপদ রাখতে এবং লোকালয়ে প্রবেশ রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অভয়ারণ্যের ভেতরে খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের জন্যও বিশেষ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং সাফারি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।



















