জয়পুর, ১৪ মে (আইএএনএস): রাজস্থানের কোচিং হাব সিকারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে নীট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস চক্রের। ইতিমধ্যেই এই মামলায় কোচিং সেন্টার, দালালচক্র, পরীক্ষার্থী এবং অভিযুক্তদের আত্মীয়দের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরদার করেছে সিবিআই।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত যশ যাদব ও বিকাশ সিকারের একটি কোচিং সেন্টারে একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকেই প্রশ্নফাঁস চক্রের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কীভাবে এই চক্র কোচিং মহল ও ছাত্রদের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, বুধবার জয়পুর থেকে চারজন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ধৃতরা হলেন মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দীনেশ বিওয়াল, হরিয়ানার বাসিন্দা যশ যাদব এবং মাঙ্গিলালের ছেলে বিকাশ। আদালতে তোলার পর তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দীপাবলির সময় থেকেই অভিযুক্তদের কাছে খবর পৌঁছে গিয়েছিল যে এ বছর নীট-এর প্রশ্নপত্র আগাম পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, পরীক্ষার বহু মাস আগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিল প্রশ্নফাঁস চক্র।
সিবিআই সূত্রে আরও জানা যায়, মহারাষ্ট্রের আহিল্যাবাই নগরের বাসিন্দা ধনঞ্জয়ের কাছ থেকেই প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বলে অভিযোগ। পরে সেই প্রশ্নপত্র নাসিকের শুভম খৈরনারের মাধ্যমে হরিয়ানার যশ যাদবের কাছে পৌঁছয়। সেখান থেকে তা রাজস্থানের মাঙ্গিলাল ও দীনেশ বিওয়ালের হাতে আসে এবং পরে সিকার ও জয়পুরে ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তের পরিধি এখন অভিযুক্তদের আত্মীয়দের দিকেও বাড়ানো হয়েছে। দীনেশ বিওয়ালের ভাইঝি সোনিয়া বর্তমানে মুম্বইয়ের একটি মেডিক্যাল কলেজে পড়ছেন। আরও এক ভাইঝি পলকও তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এছাড়া মাঙ্গিলাল বিওয়ালের মেয়ে প্রকৃতি, যিনি দৌসা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী, এবং বিকাশ, যিনি সওয়াই মাধোপুর মেডিক্যাল কলেজে আসন পেয়েছেন, তাঁদের ভর্তি প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দীনেশ বিওয়ালের ছেলে ঋষি এখনও পলাতক। সিকারের রাকেশ মান্ডওয়ারিয়া এবং জয়পুরের প্রজাপত নামে আরও এক অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিবিআই। ইতিমধ্যে সিকারেই ঘাঁটি গেড়েছে তদন্তকারী দল।
রাজস্থান এসওজি আগে যেসব ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আটক করেছিল, তাঁদের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের শহর ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে দেশের বৃহত্তম মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে। পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য জাল চক্রের সক্রিয় ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।



















