তিরুবনন্তপুরম, ১৩ মে (আইএএনএস) : নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্তের পরিধি এবার কেরল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। (সিবিআই) সূত্রে জানা গেছে, কেরলের দুই জেলার কিছু পড়ুয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ফাঁস হওয়া আসল নিট প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে তৈরি একটি ‘মডেল প্রশ্নপত্র’ পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই কেরলের কয়েকজন পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল।
রাজস্থান পুলিশ প্রায় ২০০ জন পড়ুয়ার তথ্য সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার পরই কেরল যোগের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই তালিকায় কেরলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পড়ুয়ার নাম রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্থানের চুরু জেলার এক মেডিক্যাল পড়ুয়ার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যিনি বর্তমানে কেরলে পড়াশোনা করছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনিই কেরলে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র ছিলেন।
সিবিআই ইতিমধ্যেই ১০টি রাজ্যে তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। দেশের অন্যতম বড় প্রবেশিকা পরীক্ষা জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত চক্রকে ধরতে চারটি পৃথক দল কাজ করছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আগের মতো প্রশ্নপত্র পরিবহণের সময় নয়, বরং মহারাষ্ট্রের নাসিকের যে ছাপাখানায় এবারের নিট প্রশ্নপত্র মুদ্রিত হয়েছিল, সেখান থেকেই প্রশ্ন ফাঁসের সূত্রপাত হয়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, শুভম করনিয়ার নামে এক মেডিক্যাল ছাত্র ছাপাখানা থেকে আসল প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা হরিয়ানার কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর হাতে তুলে দেয়। পরে সেই প্রশ্নপত্র সিকারভিত্তিক মূল চক্রের হাতে পৌঁছায়।
সন্দেহ এড়াতে আসল প্রশ্নপত্রকে পরিবর্তন করে ‘মডেল প্রশ্নপত্র’-এর আকারে ছড়ানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কেরল, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও বিহার-সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মডেল প্রশ্নপত্রে থাকা জীববিজ্ঞানের ৯০টি প্রশ্ন এবং রসায়নের ৪৫টির মধ্যে ৩৫টি প্রশ্ন আসল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
অভিযোগ, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ২৫ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হচ্ছিল। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এটি একটি সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য পরীক্ষাজালিয়াতি চক্রের অংশ।



















