বেঙ্গালুরু, ১১ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র বেঙ্গালুরু সফরের ভাষণকে কেন্দ্র করে সোমবার তীব্র আক্রমণ শানালেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী কি ওই সভায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য রেখেছিলেন, নাকি কর্নাটক বিজেপির সভাপতি অথবা রাজ্যের বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় ছিলেন।
এক প্রেস বিবৃতিতে সিদ্ধারামাইয়া বলেন, রবিবারের সভায় প্রধানমন্ত্রী কোন ভূমিকায় বক্তব্য রেখেছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং সেই বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
যদিও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেছিলেন, সিদ্ধারামাইয়ার দাবি, সেই ভাষণ আসলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের “ব্যর্থতা” এবং কর্নাটকে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর “অসহায়তা”-ই প্রকাশ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মিথ্যা, বিদ্বেষ এবং ঈর্ষায় ভরা বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন।
তিনি বলেন, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী কিংবা অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো এই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীরা কখনও পথসভামুখী ভাষায় বিরোধী দলকে আক্রমণ করেননি।
সিদ্ধারামাইয়ার আরও দাবি, বেঙ্গালুরু সফরেও প্রধানমন্ত্রী যেন এখনও “নির্বাচনী প্রচারের মোড”-এই ছিলেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে পেট্রোল, ভোজ্যতেল এবং সোনা কেনা কমানোর যে আবেদন জানিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বানানোর দাবি করেছিলেন এবং দারিদ্র্য দূর হয়েছে বলেছিলেন, তিনিই এখন মানুষকে সোনা কম কিনতে, জ্বালানি কম ব্যবহার করতে এবং বিদেশ ভ্রমণ এড়াতে বলছেন। এ কেমন উন্নয়ন?
সিদ্ধারামাইয়ার অভিযোগ, পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি ও ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির পিছনে রয়েছে কেন্দ্রের “বিভ্রান্তিকর বিদেশনীতি”। তাঁর দাবি, ইজরায়েল, আমেরিকা এবং ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংঘাতের মাঝখানে ভারত পড়ে গিয়েছে।
তিনি বলেন, এই সময়ে ভারত যদি ন্যায় এবং নৈতিকতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিত, তবে দেশকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত না।
কর্নাটকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৪.৩৩ লক্ষ টাকা, যেখানে জাতীয় গড় ২.১১ লক্ষ টাকা।
তিনি আরও বলেন, কর্নাটকের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮.১ শতাংশ, যেখানে জাতীয় বৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশ। দেশের মোট জিডিপিতে কর্নাটকের অবদান ৯.১৯ শতাংশ বলেও দাবি করেন তিনি।
সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্রের পর পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) সংগ্রহে কর্নাটকের অবদানই দ্বিতীয় সর্বাধিক।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সিদ্ধারামাইয়া বলেন, কর্নাটক যে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, তার জন্য আর কী প্রমাণ প্রয়োজন?
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে বিজেপির সঙ্গে জোট করা বহু আঞ্চলিক দলকে পরে বিশ্বাসঘাতকতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর উল্লেখ করা দলগুলির মধ্যে রয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, এআইএডিএমকে, পিডিপি, শিব সেনা, শিরোমণি আকালি দল এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বহু বিরোধী নেতাকে “চাপ সৃষ্টি করে” বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এখন বিজেপি যখন কংগ্রেসকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে আক্রমণ করছে, তখন তা দেখে মানুষ হাসছে।
কর্নাটকে বিজেপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন সিদ্ধারামাইয়া। তিনি বলেন, দলের অবস্থা এখন ঝুড়িতে আটকে থাকা কাঁকড়ার মতো, যেখানে নেতারা একে অপরকে টেনে নামাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক আত্মঘাতী লড়াইয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।



















