বিলোনিয়া, ৮ মে: দক্ষিণ জেলায় গরু চুরি ও পাচার রুখতে তৎপর হয়ে উঠেছে পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার ভোরে বিলোনিয়া থানার পুলিশের অভিযানে ঋষ্যমুখ এলাকার শ্যামলী বাজার থেকে গরু বোঝাই দুটি গাড়ি আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় গাড়ির চালকরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিলোনিয়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা সামনে আসে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পথ অবরোধে সামিল হন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে গরু পাচার বন্ধ ও পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানায়। এরপরই দক্ষিণ জেলা পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সেই মোতাবেক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে জোলাইবাড়ি থানা, বিলোনিয়া থানা এবং ঋষ্যমুখ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি শুরু করেন। অভিযানের সময় ঋষ্যমুখ বিধানসভা কেন্দ্রের শ্যামলী বাজার এলাকায় টি আর ০৩- জে -১৭৪৩ এবং টি আর ০৩ – ডি -২২২২ নম্বরের দুটি গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সেগুলিকে আটকায়।
এর মধ্যে টিআর০৩_ জে_১৭৪৩ নম্বরের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি গরু উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে টিআর০১ _ ডি_২২২২ নম্বরের গাড়িটিকে গরু পাচারে সহযোগিতার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে দুটি গাড়ির চালকরাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এদিন দুপুরে বিলোনিয়া থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ওসি সঞ্জিত সেন জানান, উদ্ধার হওয়া গরুগুলি উদয়পুরের জামজুড়ি বাজার থেকে গাড়িতে তোলা হয়েছিল। সেগুলি জোলাইবাড়ি হয়ে ঋষ্যমুখ এবং পরে বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পাচারের আগেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে গরুগুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও জানান, চুরির গরু সন্দেহে পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন এবং মোটর ভেহিকেল আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক চালকদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও দক্ষিণ জেলা পুলিশ একাধিক গরু বোঝাই গাড়ি আটক করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাচারকারী ও চালকদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এবারও সেই একই চিত্র সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে পাচারচক্রের মূল হোতাদের ধরতে পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে।



















