নয়াদিল্লি, ২৯ এপ্রিল (আইএএনএস): জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম)-এর প্রধান মাসুদ আজহার-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক জল্পনার মাঝে সংগঠনের ভেতরে বড়সড় পুনর্গঠনের খবর সামনে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আজহারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং এই তথ্য গোপন রাখতে সক্রিয় রয়েছে আইএসআই।
গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক জানান, সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী আজহার এতটাই অসুস্থ যে তিনি হাঁটাচলা করতেও অক্ষম। তবে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসুক, তা চায় না আইএসআই। এমনকি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়ে কিছু না প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি।
উল্লেখ্য, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক-এর পর থেকেই আজহার কার্যত জনসমক্ষে অনুপস্থিত। এরপর মাত্র একবার তাঁকে দেখা গিয়েছে। মাঝে মাঝে কিছু অডিও বার্তা সামনে এলেও তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো অডিও ছড়িয়ে সংগঠনের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি-ও আজহারের অসুস্থতার কথা নিশ্চিত করেছেন বলে সূত্রের খবর। রমজান মাসে প্রকাশিত একটি অডিও বার্তায় তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল শোনায়, যা অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়।
গোয়েন্দাদের মতে, আইএসআই এই তথ্য গোপন রাখার পিছনে দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে—একদিকে সংগঠনের কর্মীদের মনোবল অটুট রাখা, অন্যদিকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখা।
সূত্রের খবর, জইশ-ই-মহম্মদে নেতৃত্ব এখন সীমিত সংখ্যক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। সংগঠনের শীর্ষস্তরে মাত্র পাঁচজনকে রাখা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেন আজহারের বোন সাদিয়া আজহার, তালহা-আল-সাইফ, মুফতি আসগর (অপারেশন প্রধান), মোহাম্মদ হাসান (মুখপাত্র) এবং মৌলানা সারি মাসুদ আহমেদ (প্রচার ও র্যাডিক্যালাইজেশন শাখার প্রধান)।
আজহারের ডেপুটি হিসেবে পরিচিত আবদুল রউফ আজহার-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়ালেও তা নিশ্চিত নয়। তিনি জীবিত থাকলে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা মহলের মতে, জইশ-ই-মহম্মদকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে আইএসআই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংগঠনের কাঠামো পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত মাসুদ আজহারের অবস্থা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
–আইএএনএস



















