ঢাকা, ১৩ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা, চাঁদাবাজি এবং বিশেষ করে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চলা বিভিন্ন ঘটনার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম সংখ্যালঘু মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
ধর্মীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করা এই সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, একটি ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী’ ধারাবাহিকভাবে গাইবান্ধা জেলার রাধা-গোবিন্দ মন্দির ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাদের মতে, এই ধরনের ঘটনা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
শুক্রবার ঢাকায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সদস্যরা বাংলাদেশের সরকারের কাছে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বৈঠকে বলা হয়, সাম্প্রদায়িক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দ্রুত ও যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, যারা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও উসকানি ছড়াচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা-১ শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির-এ বিশ্বের বৃহত্তম ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনার কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই ঘোষণার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, প্রকল্পটির বিরোধী ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির চাপের মুখেই নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন মন্দির এবং ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণকে ঘিরে হুমকি, উসকানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ মসজিদ রয়েছে এবং নতুন মসজিদও নির্মিত হচ্ছে। তাহলে একটি মাত্র রামমন্দির বা ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণ নিয়ে এত বিরোধিতা কেন? যদি ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার জন্য হয়, তবে তা সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মীয়মাণ রামমন্দিরকে ঘিরে যে হুমকি, উসকানি ও বিদ্বেষমূলক প্রচার চলছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ধ্বংস করার অধিকার নেই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে ধর্মীয় মতভেদ কখনও হিংসা বা বর্বরতার মাধ্যমে মেটানো যায় না।”



















