নয়াদিল্লি, ১৩ জুন (আইএএনএস): উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, রাজনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিদেশ দফতর পর্যায়ের বৈঠকে (এফওসি) আলোচনা করল ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনি (পিএনজি)। বৈঠকে দুই দেশই সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) জানিয়েছে, বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্বেশ নেগি এবং পাপুয়া নিউ গিনির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বিদেশ দফতরের সচিব এলিয়াস ওহেঙ্গু।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুই পক্ষ উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা করেছে। পাশাপাশি বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।”
প্রথম বিদেশ দফতর পর্যায়ের বৈঠক ২০২২ সালে পোর্ট মোরসবি-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরবর্তী দফার আলোচনা সুবিধাজনক সময়ে পোর্ট মোরসবিতেই আয়োজন করা হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা পাপুয়া নিউ গিনির স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে সরকারি সফরে সে দেশে গিয়েছিলেন।
সেই সফরে তিনি পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতের জনগণের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
মার্ঘেরিটা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পাপুয়া নিউ গিনির গভর্নর-জেনারেল স্যার বব বোফেং দাদায়ে-কে চিঠি পাঠিয়ে স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক পাপুয়া নিউ গিনি সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়। সেই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।
সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি পোর্ট মোরসবিতে তাঁর পাপুয়া নিউ গিনির সমকক্ষ জেমস মারাপের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ সহযোগিতা ফোরাম (এফআইপিআইসি) শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া এফআইপিআইসি-তে ভারত ছাড়াও ১৪টি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ফিজি, সামোয়া, টোঙ্গা, ভানুয়াতু, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ-সহ অন্যান্য দ্বীপরাষ্ট্র।
























