চেন্নাই, ১৩ জুন (আইএএনএস): ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফলের পর আত্মসমালোচনায় নামতে চলেছে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)। দলীয় নেতৃত্ব, পদাধিকারী এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের নিয়ে জেলা ভিত্তিক বিস্তৃত পরামর্শ কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনী ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করে পুনরুজ্জীবনের রূপরেখা তৈরি করা যায়।
দলের শীর্ষ সূত্রের খবর, চলতি বিধানসভা অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হতে পারে। এর ফলে আইনসভার কাজে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছে নেতৃত্ব।
জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার আগামী ১৮ জুন বিধানসভায় ভাষণ দেবেন। প্রায় পাঁচ দিনব্যাপী অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে দলের অনেকেই আশা করছেন, এর মাধ্যমে খোলামেলা ও সৎ আলোচনা সম্ভব হবে। সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির কারণ সম্পর্কে জেলা স্তরের নেতা ও কর্মীদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও দলীয় গবেষকদের মতে, নির্বাচনী ফলাফলের নিরপেক্ষ ও বিস্তৃত পর্যালোচনা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই আত্মসমীক্ষা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআইএডিএমকে মাত্র ৪৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ৪৪টি আসনে দ্বিতীয় এবং ৮১টি আসনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দলটি। তবে গবেষকদের মতে, এই আসনগুলির অনেকগুলিতেই এখনও দলের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয় স্থান পাওয়া ৪৪টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে দল ৩০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পেয়েছে। একইভাবে, যেখানে তৃতীয় স্থান পেয়েছে সেই ৮১টি আসনের মধ্যে ৩২টিতে এআইএডিএমকের ভোটের হার ২৫ শতাংশের বেশি ছিল।
কাঞ্চিপুরম, কাটপাডি, ভান্দাবাসি, কল্লাকুরিচি, ভেপ্পানাহল্লি, উদুমালপেট, থুরাইয়ুর, পুম্পুহার, শোলাবন্দন এবং শ্রীবৈকুন্তম-এর মতো কেন্দ্রগুলিকে পুনরায় সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দলীয় মহলে কিছুটা স্বস্তির কারণ হল, দলের সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক ভোটের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি এআইএডিএমকের উপেক্ষা করা উচিত নয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আসনগুলিতে এআইএডিএমকের ভোটের হার ছিল ৪০.৪৮ শতাংশ। সর্বশেষ নির্বাচনে তা নেমে এসেছে ২৮.৭ শতাংশে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তামিলনাড়ুর একাধিক জেলায় এখনও দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী রয়েছে। সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আত্মসমালোচনা ও পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ এআইএডিএমকেকে আবারও রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হতে পারে।
______



















