নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ এপ্রিল: ভারত সরকারের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক, ত্রিপুরা সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন (পঞ্চায়েত) বিভাগের সহযোগিতায়, ‘গ্রামীণ ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী স্থান ও দর্শনীয় স্থানসমূহের উপর একটি মনোগ্রাফ’ শীর্ষক একটি চিত্রসম্বলিত প্রকাশনা জাতীয় পঞ্চায়েতি রাজ দিবস উপলক্ষে গত ২৪ শে এপ্রিল নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে উন্মোচিত হয়েছে।
এই মনোগ্রাফটি গ্রামীণ ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক, স্থাপত্যিক এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে নথিভুক্ত ও প্রচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পঞ্চায়েত স্তরে সংকলিত এই প্রকাশনায় রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানসমূহের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা ত্রিপুরার বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায়।
পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের পঞ্চায়েত ধরোহর উদ্যোগের অধীনে প্রস্তুত এই উদ্যোগটি পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তোলার জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংবিধান অনুযায়ী পঞ্চায়েতের নিকট ন্যস্ত ২৯টি বিষয়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায়, এই উদ্যোগটি তৃণমূল স্তরে ঐতিহ্য সংরক্ষণে অংশগ্রহণকে আরও জোরদার করে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রকের ‘মেরা গাঁও মেরি ধরোহর’ পোর্টালের জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে। ত্রিপুরায় এই উদ্যোগটি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এবং পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মনের দূরদর্শী দিকনির্দেশনার ফলে বিশেষ গতি পেয়েছে। গ্রামীণ ইকো-ট্যুরিজমের প্রসারে তাঁদের বিশেষ গুরুত্বারোপ এই ধরনের প্রচেষ্টাকে একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত দিশা প্রদান করেছে। তাঁদের নেতৃত্ব গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টেকসই পর্যটন, জীবিকা সৃষ্টির সুযোগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হয়েছে।
গ্রামীণ ইকো-ট্যুরিজমের প্রসারে তাঁদের বিশেষ গুরুত্বারোপ এই ধরনের প্রচেষ্টাকে একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত দিশা প্রদান করেছে। তাঁদের নেতৃত্ব গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টেকসই পর্যটন, জীবিকা সৃষ্টির সুযোগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হয়েছে। এই মনোগ্রাফটি অজানা ও অনাবিষ্কৃত পর্যটন স্থলসমূহকে তুলে ধরতে এবং ত্রিপুরার গ্রামীণ অঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজম ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকাশনাটি পঞ্চায়েত, গ্রন্থাগার এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হবে এবং পঞ্চায়েতগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যাতে তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় ঐতিহ্যকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।
একই অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েত ধরোহর উদ্যোগের অধীনে আরও দুটি প্রকাশনা ‘তিরুপতির গ্রামীণ ঐতিহ্যের উপর একটি মনোগ্রাফ’ এবং ‘উত্তরকাশী: সৌম্য কাশী-হিমালয়ের ঐতিহ্যের আত্মা’-উন্মোচন করা হয়।
এই সমস্ত উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ রূপকল্প এবং নয়টি জন-সংকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মধ্যে ‘দেশ দর্শন’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ অন্তর্ভুক্ত। এই উদ্যোগগুলিতে জনঅংশগ্রহণ (জন-ভাগিদারি), স্থায়ী উন্নয়ন এবং দেশীয় ঐতিহ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির প্রসারের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।


















