নয়াদিল্লি, ১৪ জুন (আইএএনএস): কথিত উগ্রপন্থী কার্যকলাপ ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার করেছে মধ্যপ্রদেশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। টানা দ্বিতীয় দিনের অভিযানে এই মামলার মূলচক্রী ও সিনিয়র এজেন্ট বলে অভিযুক্ত নঈম কুরেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এটিএস সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের সারাংপুর এলাকা থেকে কুরেশিকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে পেশ করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের এটিএস হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, নঈম কুরেশি বিদেশি যোগাযোগের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাঠাতেন। তিনি ভোপালের বাসিন্দা মহম্মদ ফারাজকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন এবং তাকে আফগানিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তে জিহাদি সাহিত্য, সন্দেহজনক নথি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে ফোনকলের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে এটিএস।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন জিহাদ-সংক্রান্ত সন্দেহভাজন সাহিত্য, বিভিন্ন নথি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য উদ্ধার হয়েছে।
এটিএস সূত্রের দাবি, অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের ডিজিটাল পরীক্ষায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানভিত্তিক একাধিক নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিদেশি যোগাযোগ রক্ষার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হত বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন শহরের ছবি ও ভিডিও পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ফলে আন্তঃরাজ্য পর্যায়ে বিস্তৃত একটি বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, এই চক্রটি একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত এবং ‘স্লিপার সেল’-এর মতো কাঠামোয় কাজ করছিল। নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে এবং এর প্রকৃত বিস্তার নির্ধারণে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
মধ্যপ্রদেশ এটিএসের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ধার জেলা থেকে হাজি আজহার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানার নুহ থেকে এক সন্দেহভাজনকে ভোপালে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এটিএস আরও অভিযোগ করেছে, সৌদি আরবে বসে থাকা এক ‘হ্যান্ডলার’ যুবকদের উগ্রপন্থা-সংক্রান্ত কার্যকলাপে প্ররোচিত করছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেনের সূত্র এবং যোগাযোগের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



















