নয়াদিল্লি, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংসদ চত্বরে গেরুয়া পোশাক পরে স্বতন্ত্র সাংসদ পাপ্পু যাদবের প্রতিবাদকে ‘অনুচিত’ বলে মন্তব্য করলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাম গোপাল যাদব। সোমবার তিনি বলেন, অভিযোগের সঙ্গে সাধু-সন্তদের কোনও সম্পর্ক নেই, তাই তাঁদের প্রতীকীভাবে যুক্ত করে প্রতিবাদ করা ঠিক হয়নি।
শুক্রবার সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিরোধী সাংসদরা রামমন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে গেরুয়া পোশাক পরে অংশ নেন পাপ্পু যাদব। প্রতীকী নাট্যরূপে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক সাংসদকে অনুদানের বাক্সে অর্থ রাখতে দেখা যায়, আর পাপ্পু যাদবকে সেই অর্থ নিজের পকেটে রাখতে দেখা যায়, যা অভিযোগ অনুযায়ী অনুদানের অর্থ আত্মসাতের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়। বারাণসীতে রাহুল গান্ধী, পাপ্পু যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আওধেশ প্রসাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সনাতন ধর্মকে অপমান করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাম গোপাল যাদব বলেন, “এটি ঠিক হয়নি। রামমন্দিরে যে চুরির অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে সাধু-সন্তদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই এই ধরনের প্রতীকী উপস্থাপনা করা উচিত ছিল না।”
তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, রামমন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তাঁর বক্তব্য, “সমস্যার সমাধান সম্ভব, যদি সমাধানের ইচ্ছা থাকে। রামমন্দিরের বিষয়টি কোটি কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রামভক্ত ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অর্থ, গয়না, সোনা-রূপো দান করেছেন। সেই অনুদান নিয়ে কোনও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে।”
এদিকে, রাহুল গান্ধী, পাপ্পু যাদব ও আওধেশ প্রসাদের বিরুদ্ধে এফআইআরের প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব অভিযোগ করেন, মূল ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, রাম জন্মভূমি-সংক্রান্ত জমি কেলেঙ্কারি ও অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি করা উচিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কীর্তি আজাদও প্রশ্ন তোলেন, অনিয়মের অভিযোগে যাঁদের নাম উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, “আমি একে চুরি বলব না, ডাকাতি বলব। এই অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আলোচনা বা ব্যবস্থা হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”



















