আমতলী, ১৪ জুন: যে সন্তানকে বুকের মধ্যে আগলে রেখে বড় করেছেন, জীবনের শেষ বেলায় সেই সন্তানের হাতেই নির্যাতনের শিকার হতে হলো ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মাকে। এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে আমতলী থানাধীন সেকেরকোট নেতাজী সুভাষ কলোনি সাব-সেন্টার সংলগ্ন এলাকায়।
অভিযোগকারী বৃদ্ধা রানুবালা সরকার জানান, প্রায় আট বছর আগে তাঁর স্বামী বিশ্বনাথ সরকার মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে, মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে সরকারি চাকরিজীবী এবং ছোট ছেলে বাচ্চু সরকার পেশায় অটোচালক।
বৃদ্ধার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছেলে বাচ্চু সরকার তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে নিয়মিত খাবার না দিয়ে উল্টো প্রতি মাসে তাঁর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়ে যায়। শনিবারও একইভাবে ছেলের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অভিযোগ, ওই দিন বাচ্চু সরকার একটি চেয়ার দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়, যার ফলে তিনি আহত হন।
প্রাণনাশের আশঙ্কায় বৃদ্ধা রানুবালা সরকার আমতলী থানায় গিয়ে ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও পুলিশ এখনও ঘটনাস্থলে যায়নি এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
রবিবার সকালে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রানুবালা সরকার বলেন, “আমি বাঁচতে চাই, তোমরা আমাকে বাঁচাও।” তাঁর এই আর্তনাদ উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাজ্য মহিলা কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসন এবং মহিলা কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং নির্যাতিত বৃদ্ধা মা ন্যায়বিচার পান কি না।
























