বিশালগড়, ২৩ এপ্রিল: অবৈধভাবে ফ্লিপকার্ট অফিসের বিভিন্ন সামগ্রী বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগে বিশালগড় থানার পুলিশ একটি গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য আটক করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে জাঙ্গালিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি ফ্লিপকার্ট অফিসে ডেলিভারি কর্মীরা একত্রিত হয়ে শাটার ডাউন কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, অফিসের কিছু কর্তাব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং পরবর্তীতে পুলিশ ও কাস্টমস দপ্তর তদন্তে নামে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্লিপকার্ট অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লক্ষাধিক টাকার সাবান, শ্যাম্পু-সহ বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করা হতো। এরপর সেই পণ্যগুলি গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হতো। এই চক্রে অফিসের ম্যানেজার বিমল লোদ, এরিয়া ম্যানেজার বাপি চক্রবর্তী এবং দীপঙ্কর দেবনাথ জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের খবর, পাচারের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকায় একটি কাগজপত্রবিহীন মালবাহী গাড়ি কেনা হয় এবং তাতে ভুয়া নম্বরপ্লেট লাগানো হয়। গাড়ির নম্বরপ্লেটের সঙ্গে বডি ও ইঞ্জিনের কোনো মিল নেই বলেও জানা গেছে। জাঙ্গালিয়া অফিস থেকে পণ্য প্রথমে রাস্তারমাথা এলাকার একটি অফিসে পাঠানো হতো, সেখান থেকে বক্সনগর হয়ে সোনামুড়া সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া হতো।
বুধবার রাতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বিশালগড় থানার পুলিশ ওই
গাড়িটিকে আটক করে। গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ ফ্লিপকার্টের পণ্যও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাঝে মাঝে এই গাড়িতে মাদকদ্রব্যও পাচার করা হতো বলে সন্দেহ রয়েছে।
ঘটনার পর রাতে সোনামুড়া এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় এসে আটক গাড়ি ও পণ্য ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ ও কাস্টমস দপ্তর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।



















