News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • নিম্নমানের কাজের অভিযোগে লক্ষীছড়ার বাঁধের সংস্কার কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা, উত্তেজনা গোলধারপুরে
Image

নিম্নমানের কাজের অভিযোগে লক্ষীছড়ার বাঁধের সংস্কার কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা, উত্তেজনা গোলধারপুরে

কৈলাসহর, ২৩ এপ্রিল: দপ্তরের নির্ধারিত গাইডলাইন না মেনে কাজ করার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাঁধ সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দিলেন। ঘটনাটি উত্তর ত্রিপুরার কৈলাসহর মহকুমার গোলধারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নং ওয়ার্ড এলাকায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় এক বছর আগে লক্ষী ছড়ার বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। গাইডলাইন অনুযায়ী, পুরনো বাঁধের উচ্চতা ও প্রস্থ বাড়ানোর কথা থাকলেও বর্তমানে সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না। কাজের শুরুতে কিছুটা উন্নয়ন হলেও পরে বাঁধের উচ্চতা ও প্রশস্ততা আগের অবস্থাতেই রেখে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এছাড়াও, বাঁধের উপর ও দুপাশে প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি ফেলা হচ্ছে না। ফলে বাঁধের উপরিভাগের মাঝখানে জল জমে থাকছে এবং এর জেরে বাঁধের দুপাশে বড় বড় ফাটল দেখা দিচ্ছে। গ্রামবাসীরা আরও জানান, বর্তমানে বাঁধের অবস্থা এমন যে, একসঙ্গে দু’টি যানবাহন চলাচল করা সম্ভব নয়, যেখানে আগে সহজেই দুই দিক থেকে গাড়ি যাতায়াত করত।

গুরুতর অভিযোগ করে গ্রামবাসীরা বলেন, পুরনো বাঁধের উপর ইট সলিং রাস্তা ছিল, যা সংস্কারের কাজ শুরুর আগে তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ইট বসানো হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, দপ্তরের পক্ষ থেকে সেই ইট অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। যদিও ওই ইট সলিং রাস্তা গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় প্রায় ১০ দিন জলমগ্ন অবস্থায়ও এই বাঁধের উপর দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এমনকি সেই সময় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীও এই পথ দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বলে জানান গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের জন্য এলাকার বহু সেগুন, সুপারি, কাঁঠাল ও বাঁশ গাছ কেটে ফেলা হলেও তার কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি দপ্তরের আধিকারিকদের জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

অবশেষে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বাঁধের কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন। শ্রমিকরাও বাধার মুখে কাজ বন্ধ রেখে চলে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয় এবং কবে ফের কাজ শুরু হয়।

Releated Posts

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দক্ষিণ ত্রিপুরায় মেগা স্কুল মনিটরিং অভিযান শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মানোন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.)…

ByByReshmi Debnath Jun 10, 2026

বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভে সামিলবিদ্যুৎ গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কর্মচারী কল্যাণ সমিতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন: বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে বিদ্যুৎ…

ByByReshmi Debnath Jun 10, 2026

রাধাকিশোর নগরে লিকুইড নাইট্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র ও নতুন অফিস ভবনের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন: রাজ্যে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃত্রিম প্রজনন পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার…

ByByReshmi Debnath Jun 10, 2026

বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, কোনাবন সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার পঞ্চাশোর্ধ অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন: ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার মধুপুর থানার অন্তর্গত কোনাবন হরিহরদোলা সীমান্ত এলাকায় এক বিশেষভাবে সক্ষম…

ByByReshmi Debnath Jun 10, 2026
Scroll to Top