আগরতলা, ২২ এপ্রিল: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা রাজ্য জুড়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ত্রিপুরা রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে আসা ভোট-পরবর্তী সহিংসতার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গতকাল গভীর রাতে তাঁর সরকারি বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে পৌরহিত্য করে এই নির্দেশনা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
সম্প্রতি, টিটিএএডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তিপ্রা মথা পার্টির সাথে জড়িত কিছু দুষ্কৃতি দলীয় সংশ্লিষ্টতার আড়ালে হিংসাত্মক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরফলে বেশ কিছু বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা গভীর রাতে তাঁর সরকারি বাসভবনে পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। প্রথম বৈঠকে, মুখ্যমন্ত্রী বিধায়ক, মন্ত্রী এবং জনজাতি নেতা সহ প্রদেশ বিজেপির সিনিয়র নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
এই আলোচনায় ডাঃ সাহা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন, দলীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট গ্রহণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য কীভাবে ত্রাণ ও সহায়তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায় সে বিষয়ে তিনি নেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা, স্বরাষ্ট্র সচিব অভিষেক সিং, পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ সহ বিএসএফ, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) এবং আসাম রাইফেলস সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকগণ। পর্যালোচনা বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ডাঃ সাহা সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেটা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।



















