কলকাতা, ২২ এপ্রিল : সাম্প্রতিক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে বাংলার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তারপরও জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রকে সহযোগিতা করছে না। কারণ, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করছেন। বর্তমানে এই বিষয়টি গোটা ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।
সাংসদের দাবি, কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার মুর্শিদাবাদ, মালদা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সহ ৪৪৭ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার তাতে সহযোগিতা করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রীয় বাহিনী পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিক স্বার্থে তা কার্যকর হতে দেওয়া হচ্ছে না।
তাঁর আরও দাবি, বিএসএফ প্রায় এগারো হাজার অনুপ্রবেশকারীদের আটক করা সত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। যার ফলে বিশাল সংখ্যক মুসলিম ও রোহিঙ্গা ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। যেসমস্ত এলাকায় মুসলিমের সংখ্যা ১৯ শতাংশ ছিল আজ সেখানে মুসলিমের সংখ্যা বেড়ে ২৯ শতাংশ হয়েছে। একমাত্র ভোটব্যাংকের রাজনীতি করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তাঁর অভিযোগ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বহু অনুপ্রবেশকারীকে আটক করলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে রোহিঙ্গা সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ বেড়েছে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে বাংলার যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বেঙ্গালুরুর এক বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে বাংলার সূত্র পাওয়া গিয়েছে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্যানিং এলাকা থেকে এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। উদ্বেগের বিষয়, এত কিছু তথ্য থাকার পরও একমাত্র সংখ্যালঘুদের ভোট পাওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা ভারতবর্ষের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন।
সাংসদের আরও অভিযোগ, রাজ্যে ভুয়ো নথিপত্র তৈরির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা উগ্রপন্থীদের সহায়তা করছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সবকিছু জানার পরও উগ্রবাদীদের পরিকাঠামোগত সশক্তিকরণ ও ভুয়ো নথিপত্র তৈরীর কারখানায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। উগ্রবাদীদের শেষ করতে কেন্দ্র সরকারকে সহযোগিতা করছেন না তিনি। তাঁর জন্য গোটা ভারতবর্ষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে রাজ্য সরকার ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করছে। একইসঙ্গে তিনি অতীতের বাম শাসনের সঙ্গেও তুলনা টানেন। তিনি বলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হলে এক মাসের মধ্যে ৪৪৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সংস্কার না হওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। মহিলা সংক্রান্ত নীতির ক্ষেত্রেও তিনি সমালোচনা করে বলেন, নারী নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও মহিলা বিলকে সর্মথন করেন নি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনসাধারণ সচেতন হয়ে উঠছে।



















