নয়াদিল্লি, ১৬ এপ্রিল (আইএএনএস): অনলাইন হানি-ট্র্যাপ, রোমান্স স্ক্যাম ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে ৫০০-রও বেশি মহিলাকে প্রতারণার অভিযোগে এক সাইবার অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ধৃতের নাম আনন্দ কুমার (৩৫), তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা।
দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার সাইবার থানার একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, বিভিন্ন ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল প্ল্যাটফর্মে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে নিজেকে কখনও ডাক্তার, কখনও প্রযোজক, আইনজীবী বা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সারা দেশের ৫০০-রও বেশি মহিলার কাছ থেকে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবেগের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুমকি দেখিয়ে অভিযুক্ত প্রায় ২ কোটি টাকা আদায় করেছে। তার কাছ থেকে চারটি স্মার্টফোন, আটটি সিম কার্ড, তিনটি ডেবিট কার্ড এবং প্রতারণার টাকায় কেনা সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে।
এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ই-এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এই গ্রেফতারি হয়। ওই মহিলা প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খোয়ান। ডেটিং অ্যাপে “বৈভব অরোরা” নামে পরিচয় দিয়ে অভিযুক্ত প্রথমে যোগাযোগ করে এবং পরে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন চালায়।
বিশ্বাস অর্জনের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় অভিযুক্ত। এমনকি “আনন্দ” নামে আরেক ভুয়ো পরিচয় দেখিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার আশ্বাসও দেয়। পরে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা আর্থিক সমস্যার গল্প বানিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা ফেরত চাইলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং “বৈভব”-এর মৃত্যু হয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেয়।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সাব-ইন্সপেক্টর প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়, যাঁদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইনস্পেক্টর প্রবেশ কৌশিক ও এসিপি সংঘমিত্রা। ডিজিটাল প্রমাণ, আইপি লগ, মোবাইল নম্বর ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকেই এই চক্র চালাচ্ছিল। এরপর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত একাধিক ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করত—যেমন বৈভব অরোরা, ডা. রোহিত বহেল, তরুণ, আনন্দ শর্মা ও শিখা। একসঙ্গে একাধিক মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রতারণা চালাত এবং সিম কার্ড ও ডিভাইস বারবার বদলে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা করত।
তার কৌশল ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডেটিং অ্যাপে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা, পরে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে টাকা আদায় করা বা মডেলিংয়ের সুযোগ, নামী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ইত্যাদির লোভ দেখানো।
অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেলও করত অভিযুক্ত।
পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি ও গাজিয়াবাদে এর আগে তার বিরুদ্ধে একই ধরনের দু’টি সাইবার অপরাধের মামলা রয়েছে। প্রতারণার বড় অংশের টাকা অনলাইন গেমিং ও ব্যক্তিগত খরচে ব্যয় করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে।


















