আহমেদাবাদ, ৬ জুন (আইএএনএস): ছত্তীসগঢ়ের সুরগুজা জেলার পারসা ইস্ট অ্যান্ড কান্তা বাসান খনি এলাকায় ১৬ লক্ষেরও বেশি গাছ ও চারা রোপণ করে পরিত্যক্ত খনি অঞ্চলকে সবুজে ঢেকে দিয়েছে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড। সংস্থার দাবি, এক সময়ের সক্রিয় কয়লাখনি এলাকা এখন পরিণত হয়েছে সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মোট ৫৬৮ হেক্টর এলাকায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালানো হয়েছে। পরিবেশ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ হিসেবে খনির কাজে একটি গাছ কাটলে তার পরিবর্তে ৪০টি গাছ লাগানো হচ্ছে।
এই প্রকল্পে স্থানীয় প্রজাতির গাছ যেমন শাল, মহুয়া, তেন্দু, অমলতাস এবং সিধা পুনরায় রোপণ করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, রোপিত গাছের প্রায় ৮৮ শতাংশই বেঁচে রয়েছে।
আদানি এন্টারপ্রাইজেস রাজস্থান রাজ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নিগম লিমিটেড-এর জন্য এই খনির ডেভেলপার ও অপারেটর হিসেবে কাজ করছে।
সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, কয়লা উত্তোলনের পর খনিজমি কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়, এই প্রকল্প তার একটি সফল উদাহরণ। দশকের শেষ নাগাদ এই এলাকায় ৪০ লক্ষেরও বেশি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, আদানি গোষ্ঠী ৩.৫ হেক্টর জুড়ে একটি নার্সারি গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লক্ষ চারা সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় শালবনের পুনর্জন্ম ঘটাতেও সাফল্য মিলেছে বলে দাবি সংস্থার।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সুরগুজা, কোরিয়া, বলরামপুর এবং সূরজপুর বন বিভাগের অন্তর্গত ৪,০০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকায় ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বনসৃজন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং অন্যান্য পরিবেশগত পদক্ষেপের জন্য ছত্তীসগঢ় সরকারের কাছে ২৫৯ কোটিরও বেশি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে একটি খনির যাত্রা শেষ হয় না, বরং সেখান থেকেই পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং টেকসই রূপান্তরের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
মন্ত্রকের বক্তব্য, “ছত্তীসগঢ়ের সুরগুজার পারসা ইস্ট অ্যান্ড কান্তা বাসান খনি এই প্রতিশ্রুতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এক সময়ের সক্রিয় খনি এলাকা আজ সবুজে ভরা প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিণত হয়েছে, যা দেখিয়ে দেয় দায়িত্বশীল খনন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।”
কয়লা মন্ত্রকের মতে, বর্তমানে পিইকেবি খনি প্রমাণ করে যে খনি কার্যক্রমের সমাপ্তি আরও সবুজ এবং টেকসই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে পারে।


















