কাঠালিয়া, ৬ জুন: যাত্রাপুর থানা এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে একদিনে দুই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দুটি ঘটনাতেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তেতৈয়ামুড়া পাড়ার বাসিন্দা মরণ চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ তাঁর নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দিন ধরে বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে মরণ চন্দ্র দাসকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। খবর পেয়ে যাত্রাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে কাঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মর্গে পাঠায়। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে, ৫ জুন রাতে দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আরও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম কমল চৌধুরী (৪৫)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাতে বাড়িতে তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী দীপালী চৌধুরী বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে তিনি ঘরে এসে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে যাত্রাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মর্গে পাঠায়।
যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থনাথ ভৌমিক জানান, দুটি ঘটনাকেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় ঘটনায় পারিবারিক অশান্তি একটি কারণ হতে পারে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। একদিনে পরপর দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় যাত্রাপুর থানা এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
























