নয়াদিল্লি, ১৩ এপ্রিল (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার বলেছেন, তিনি নিজে গৃহস্থ না হলেও পারিবারিক জীবনের সব দিক তিনি বোঝেন এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের মহিলারা আজ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছেন।
বিজ্ঞান ভবনে ‘নারী শক্তি বন্দন সম্মেলন’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে মহিলাদের প্রবেশের পথ আরও সহজ হতে চলেছে এবং দেশের উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, “সংসদ এক নতুন ইতিহাস রচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা অতীতের স্বপ্ন পূরণ করবে এবং ভবিষ্যতের সংকল্পকে বাস্তবায়িত করবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারী শক্তি বন্দন আইন সংশোধনী বিলটি সর্বদলীয় আলোচনা, সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাশ করানো সরকারের অগ্রাধিকার।
২০২৩ সালে এই আইনটি সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠানগুলিকে মহিলাদের নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, দেশের নারী শক্তি জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
জল জীবন মিশনের সাফল্যেও পঞ্চায়েত স্তরে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংবেদনশীলতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যেমন—বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রকল্প, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা এবং শিশুদের টিকাকরণের জন্য মিশন ইন্দ্রধনুষ। এছাড়াও স্বচ্ছ ভারত অভিযান, উজ্জ্বলা যোজনা, ‘হর ঘর নল’ প্রকল্প এবং আয়ুষ্মান যোজনার মাধ্যমে মহিলারা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের বোন ও কন্যারাই এই সমস্ত উদ্যোগের সবচেয়ে বড় উপভোক্তা। সরকারি আবাসন প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৩ কোটিরও বেশি মহিলা বাড়ির মালিক হয়েছেন।”
একটি উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে পরিবারের পুরুষরা ব্যবসার আলোচনা করলে মায়েদের দূরে থাকতে বলা হত, কিন্তু এখন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় তাঁদের মতামতও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, “আমি গৃহস্থ নই, তবু সব বুঝি।”
প্রধানমন্ত্রী দেশের সমস্ত মহিলাকে এই নতুন যুগের সূচনার জন্য শুভেচ্ছা জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে মহিলাদের জন্য সংসদে সংরক্ষণের দাবি উঠছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে সর্বসম্মতি রয়েছে। মহিলাদের তাঁদের সাংসদদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়াও তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনে যাওয়ার আগে সাংসদদের ফুলের মালা দিয়ে বিদায় জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মা-বোনেদের আশীর্বাদ নিয়ে গেলে সাংসদরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেই বাধ্য হবেন।”
উল্লেখ্য, ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যেখানে নারী সংরক্ষণ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হতে পারে। ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।
এই সংশোধনের ফলে লোকসভায় আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮১৬ হতে পারে এবং তার এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে আপাতত ওবিসি মহিলাদের জন্য আলাদা কোনও সংরক্ষণ রাখা হয়নি।
সরকার দুটি বড় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে একটি পৃথক ডিলিমিটেশন বিলও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সব রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন।



















