নয়াদিল্লি, ৮ এপ্রিল (আইএএনএস): প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মোহসিনা কিদওয়াই-এর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁরা বলেন, তাঁর সরলতা, সৌম্য ব্যক্তিত্ব এবং মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক জীবন দেশজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নারীকে অনুপ্রাণিত করেছে।
এক্স-এ পোস্ট করে রাহুল গান্ধী বলেন, “মোহসিনা কিদওয়াইজির প্রয়াণের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি কংগ্রেসের এক প্রবীণ ও নিষ্ঠাবান নেতা ছিলেন, যার পুরো জীবন জনসেবার এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর সরলতা, সৌন্দর্য ও মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক জীবন দেশের অসংখ্য নারীকে অনুপ্রাণিত করেছে।” শোকের এই মুহূর্তে তিনি তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অন্যদিকে, মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “মোহসিনা কিদওয়াইজির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি কংগ্রেসের একজন স্তম্ভস্বরূপ নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন, যিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় দেশসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।” তিনি আরও জানান, লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই দীর্ঘদিন সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবে কঠিন সময়ে দলকে পথ দেখিয়েছেন।
খাড়গে বলেন, “তাঁর প্রয়াণ কংগ্রেস এবং দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”
১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকিতে জন্মগ্রহণ করেন মোহসিনা কিদওয়াই। রাজ্য রাজনীতি দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হলেও পরে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উত্তরপ্রদেশের মীরাট কেন্দ্র থেকে একাধিকবার লোকসভায় নির্বাচিত হন তিনি।
পরবর্তীতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছত্তীসগঢ় থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতীয় স্তরে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
কংগ্রেসের অন্যতম সম্মানিত নেতা হিসেবে তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি-এর সদস্য এবং অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর আত্মজীবনী ‘‘ভারতীয় রাজনীতিতে আমার জীবন’-এ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি খলিল আর. কিদওয়াইয়ের সহধর্মিণী ছিলেন এবং তাঁর তিন কন্যা রয়েছে।



















