ইটানগর, ৬ এপ্রিল(আইএএনএস): অরুণাচল প্রদেশে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার জন্য দায়ী দুই ‘দুর্বৃত্ত’ হাতিকে সফলভাবে বশে এনে ধরার ঘটনায় বনকর্মী ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
রাজ্যের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন দফতর কর্নাটক সরকারের সহায়তায় এই অভিযান চালায়। তিরাপ ও লোহিত জেলায় ওই দুই হাতির তাণ্ডবে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয় এবং ফসল ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
এই অভিযানে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া-র বিশেষজ্ঞরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
বনদফতরের এক আধিকারিক জানান, গত ৩০ মার্চ অভিযান শুরু হয়। ১ এপ্রিল ডেওমালির নরোত্তম নগরের রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের কাছে প্রথম হাতিটিকে ধরা হয়। ওই হাতিটি প্রাক্তন বিধায়ক কপচেন রাজকুমার-সহ পাঁচজনের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ।
রবিবার দ্বিতীয় অভিযানে জেকো গ্রামের কাছে আরেকটি হাতিকে ধরা হয়, যার সঙ্গে অন্তত দুইজনের মৃত্যুর যোগ রয়েছে। এর মধ্যে এক পুলিশ আধিকারিক মার্টিন লেগোর মৃত্যুও রয়েছে।
অভিযানে সহায়তার জন্য কর্নাটক থেকে ১২ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ড. রমেশা এইচ, যিনি নাগরহোল টাইগার রিজার্ভ ও বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান-এর সঙ্গে যুক্ত।
এই অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তি—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমৃদ্ধ থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী খান্ডু লিখেছেন, “দীর্ঘ আতঙ্ক ও প্রাণহানির পর এই সফল অভিযান অসাধারণ সমন্বয়, সাহস এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়।” তিনি জানান, কঠিন জঙ্গল এলাকায় এমন অভিযান পরিচালনা করতে উচ্চমানের দক্ষতা ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা দরকার।
তিনি আরও বলেন, অরুণাচল বনদফতর, কর্নাটকের বিশেষজ্ঞ দল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির যৌথ প্রচেষ্টা আন্তঃরাজ্য সহযোগিতার উজ্জ্বল উদাহরণ।
এদিকে বনদফতর স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। বাড়ির আশপাশে খাবারের বর্জ্য না ফেলার এবং হাতি প্রতিরোধে প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে ‘কিং চিলি’ গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















