গুয়াহাটি, ৬ এপ্রিল(আইএএনএস): কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বংশানুক্রমিক রাজনীতির অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অসমের হোজাইয়ে এক জনসভায় তিনি বলেন, যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি ‘জাতি প্রথম’ নীতিতে বিশ্বাসী, সেখানে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ‘পরিবারই প্রথম’ নীতিতে পরিচালিত।
নাম না করেই নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখনও দিল্লির একটি “রাজপরিবার”-এর স্বার্থেই বেশি মনোযোগী। তাঁর দাবি, অসমেও কংগ্রেসের নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্ট পরিবারের চারপাশে ঘোরে।
মোদী বলেন, বিজেপি উন্নয়ন ও সুশাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “জাতি প্রথম” ও “মানুষই প্রথম” নীতিতেই দল কাজ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসের ওই “রাজপরিবার”-এর সদস্যরা বিভিন্ন মামলায় জামিনে রয়েছেন, যা দলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ দিয়ে তিনি হিমাচল প্রদেশ-এর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস সরকার এবং সরকারি কর্মীদের বেতন পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনাগুলি কংগ্রেসের কাজের ধরনকে স্পষ্ট করে, যেখানে ভোটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে প্রতিফলিত হয় না।
অনুপ্রবেশের বিষয়েও কংগ্রেসকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, “কংগ্রেস অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দিয়েছে, যার ফলে অসমের স্বদেশি মানুষের জমি দখল হয়েছে।”
এর বিপরীতে বিজেপি সরকার অবৈধ দখলদার ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই কংগ্রেস তার বিরোধিতা করে এবং অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষ নেয়।
শেষে অসমের ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিজেপির উপর আস্থা রাখা উচিত।



















