কোটমা (মধ্যপ্রদেশ), ৫ এপ্রিল (আইএএনএস) : মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার কোটমা শহরে ভয়াবহ ভবন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়িয়েছে। রবিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও এক মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৫টা ৩০ থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কোটমা বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত প্রায় ১০ বছরের পুরনো চারতলা ‘আগরওয়াল লজ’ আচমকাই ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধস নামার আগে একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ধুলোয় ঢেকে যায় এলাকা।
প্রাথমিকভাবে ধ্বংসস্তূপের নীচে ৬ থেকে ১০ জন আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল এখনও তাদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাস্থলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ দল টানা ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবনের পাশেই প্রায় ২০x৫০ ফুট জায়গায় ১২ ফুট গভীর একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। সেই গর্তে জল জমে ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, পাশের নির্মাণকাজের প্রভাব এই ধসের অন্যতম কারণ হতে পারে।
মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী দিলীপ আহিরওয়ার জানিয়েছেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে রয়েছি। সম্পূর্ণ প্রশাসন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।”
জেলার জেলাশাসক হর্ষল পাঞ্চোলি এবং পুলিশ সুপার মোতি-উর-রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভবন নির্মাণে কোনও গাফিলতি বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।



















